সন্ধ্যার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে জনপদ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৩১

সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে জনপদ। নদী পাড়ের গ্রাম নলশ্রী, শিয়ালকাঠী, নাজিরপুর, জম্বদ্বীপ, মসজিদবাড়ী, দান্ডোয়াট, খোদাবখশা, চাউলাকাঠী, কাজলাহার, কালির বাজার, ব্রাহ্মণকাঠী, বাইশারী, জিরাকাঠী, উত্তকুল, ভৈসর, সোনাহার, গ্রামগুলো সন্ধ্যা নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে।

ভাঙ্গন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় বিলুপ্তির আশংকায় রয়েছে সহস্রাধিক ঘর, প্রতিষ্ঠান ও বন্দর। সন্ধ্যা তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যে আশ্রয় হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিবেশীর বাড়িতে, আত্মীয়দের বাড়ীতে এবং আশপাশে জেগে উঠা চরে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে ছুঁই তোলা নৌকায় জীবনের পশরা সাজিয়ে স্বপরিবারে সন্ধ্যার বুকে ভেসে জীবন যাপন করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ভৈৎসরের রহমান আলী জানান, ভাঙ্গনে বসতবাড়ি, চাষের জমি, মাছের পুকুর সব হারিয়ে এখন যাযাবারের মত জীবন যাপন করছি। একই কথা বলেন সোনাহার গ্রমের ছালেহা বেগম, মসজিদবাড়ী গ্রামের সামসুল হক, দিদিহার গ্রামের আঃ হক, উত্তরকুল গ্রামের মমিনা বেগম। ভাঙ্গন কবলিত আশ্রয়হীন অসহায় এ মানুষের পুর্নবাসনের জন্য সরকারিভাবে বানারীপাড়ায় দুটি আশ্রায়ন প্রকল্প চালু হয়েছে। বর্তমানে একটি গুচ্ছগ্রাম ও একটি আশ্রায়ন কেন্দ্রে ১২০টি পরিবার আশ্রয় পেয়েছে। 

ভূমিহীন ও সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের প্রয়োজনের তুলনায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে নদীর পাড়ের বাসিন্দরা। আরও কয়েক হাজার পরিবার তাদের ভিটে বাড়ি যে কোন মুহূর্তে বিলীন হতে পারে সন্ধ্যা নদী গর্ভে।

ইত্তেফাক/আরকেজি