বিশ্ব বাজারে পোশাক খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০:০৪

বাংলাদেশের সিংহভাগ রপ্তানি আয়ের অংশীদার তৈরি পোশাক খাতের যাত্রাটা কিন্তু শুরু হয়েছে ষাটের দশকে। তবে সত্তরের দশকের শেষের দিকে রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে এই শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের বড়ো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ছোটো উদ্যোগগুলোও দেশের অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। একক উদ্যোগে শুরু হওয়া ব্যক্তি পর্যায়ে এসব উদ্যোগগুলোর মধ্যে ছোটো ছোটো পোশাক কারখানার পাশাপাশি রয়েছে বায়িং হাউজও। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় অর্থনীতির চালিকা শক্তির অন্যতম অংশীদার।

রাজধানীর শেকেরটেক এলাকার এমন একটি প্রতিষ্ঠান জানশাইন অ্যাপারেলস। মাত্র কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে পোশাক রপ্তানি করেছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, ফিলিপাইন ও সাইপ্রাসে বিভিন্ন ধরনের পোশাক রপ্তানি করেছে। এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, ট্রাউজার, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, হুডি ইত্যাদি। এত স্বল্প সময়ে কীভাবে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারল জানশাইন অ্যাপারেলস? জানতে চেয়েছিলাম প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, আমরা ফেব্রিক্সের গুণ মান ও ক্রেতাদের সময়সীমাকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বিদেশি ক্রেতারা তাদের নির্দিষ্ট সময়ে চাহিদা মতো পণ্য বুঝে পেলে বিক্রেতার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে। মানসম্পন্ন পণ্য সময়মতো না দিতে পারলে সম্পর্ক ভালো থাকে না। তাই আমরা এই বিষয় দুটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

জানশাইন অ্যাপারেলসের একজন নিয়মিত ক্রেতা নেপালি নাগরিক নিশ্চেল জাসওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে আমার দীর্ঘ দিনের যোগাযোগ। আমি শীতের পোশাকই বেশি নিয়ে থাকি। এছাড়া মাঝে মধ্যে টি-শার্ট নিই। গত বছরের তুলেনায় এবার শীতের আগমন আগেই হতে পারে। তাই আমি অক্টোবরের শুরুতেই শীতের পোশাকের কার্যাদেশ দিয়েছি। জানশাইন অ্যাপারেলস সঠিক সময়ে আমার পণ্য বুঝে দিয়ে থাকে। এটি আমার ব্যবসাকে আরো সহজ করেছে। এছাড়া এখানকার ফেব্রিক্স আমার গ্রাহকরা বেশ পছন্দ করে।

মাত্রা ১৩টি সেলাই মেশিন দিয়ে ঘরোয়াভাবে পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেছেন রোজিনা আক্তার ও তার স্বামী সেলিম উদ্দিন। কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন বড়ো গার্মেন্টস থেকে সাব-অর্ডার নিয়ে কাজ করে থাকেন। পুঁজি কম থাকায় বড়ো আকারে কাজ করতে পারছেন না। মূলত ওভেন (জিন্স প্যান্ট) পোশাক তৈরির কাজ করেন তারা। শুধু রোজিনা আক্তার ও তার স্বামী সেলিম উদ্দিনই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছেন যারা অল্প পরিসরে পোশাক তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।  কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই অবদান দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র নয়। তাদের সবার সম্মিলিত এই অবদানেই দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে তৈরি পোশাক থেকে।