ঝিনাইদহে ১৫০ ডাক্তারের পদ শূন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০২

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলায় সদর হাসপাতাল, উপজেলা হাসপাতাল ও গ্রামীণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে  ১৫০ জন  ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সরকারি চিকিত্সা সেবা পাচ্ছে না। সাধারণত দরিদ্র মানুষ চিকিত্সা পেতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভিড় করে। সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি মানুষ চিকিত্সার জন্য আসে। ভিড় দেখে মনে হবে কোনো জনসমাবেশ।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর হাসপাতালে ডাক্তারের পদ আছে ৪০টি। ডাক্তার আছে ২০ জন। ১১ জন কনসালট্যান্টসহ ২০ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। এদিকে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২৫০ বেডে উন্নীত করা হলেও ১০০ বেডের সেটআপ দিয়ে চালানো হচ্ছে।  ওয়ার্ডগুলোতে স্থান সংকুলান হয় না। মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে রোগী রেখে চিকিত্সা করা হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে বেড আছে আটটি। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ রোগী ভর্তি থাকে। গাইনি, মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ডেরও একই অবস্থা। হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা থাকে না।  নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ ঢিমেতালে চলছে।

শৈলকুপায় উপজেলা হাসপাতাল, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন মিলিয়ে ডাক্তারের পদ আছে ২৬টি। ডাক্তার আছেন আট জন। ১৮ জন ডাক্তারের পদ শূন্য আছে। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন মিলিয়ে ডাক্তারের পদ আছে ৩২টি। ডাক্তার আছেন আট জন। ২৪ জন ডাক্তারের পদ শূন্য।  হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন মিলিয়ে ডাক্তারের পদ আছে ৩০টি। ডাক্তার আছেন পাঁচ জন। ২৫টি পদ শূন্য আছে। কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন মিলিয়ে  ডাক্তারের পদ আছে ২৬টি। ডাক্তার আছেন সাত জন। ১৯ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে।  মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন মিলিয়ে ডাক্তারের পদ আছে ৩৪টি।  ডাক্তার আছেন পাঁচ জন। ২৯ ডাক্তারের পদ শূন্য আছে। সিভিল সার্জন অফিসেও এক জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে।

২০১৪ সালে এ জেলায় ৭২ জন ডাক্তারকে গ্রামপর্যায়ে পোস্টিং দেয় সরকার। কথা ছিল তারা অন্তত তিন বছর গ্রামের মানুষের সেবা করবেন। নিয়োগের পর তারা নানা অজুহাতে গ্রামে যান না। তাদের বসার ব্যবস্থা করা হয় ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে।  কেউ ডেপুটেশনে, কেউ পড়ার অজুহাতে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসেন। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৩০০-র বেশি রোগী সেবা পেতে আসে।  ডাক্তারের অভাবে তারা চিকিত্সা পান না। আগের তুলনায় হাসপাতালগুলোতে বেশি ওষুধ সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ—হাসপাতালগুলো সাধারণ রোগীদেরকেও রেফার্ড করে  থাকে। ডাক্তাররা দায়িত্ব নেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, নতুন ডাক্তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। নতুন ডাক্তার আসার পর সংকট কমবে।