বালাগঞ্জ সরকারি ডি এন উচ্চবিদ্যালয়
শিপন আহমদ, ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা
বালাগঞ্জ সরকারি ডি এন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যতার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রধান শিক্ষকের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১১টি শাখায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১০০ শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে।
জানা যায়, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। ২০১৮ সালে আট জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পাওয়ার পেছনে অভিভাবকরা শিক্ষক শূন্যতাকে দায়ী করেছেন। সরেজমিন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নান্দনিক একাডেমিক ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলো বেশ পরিপাটি। এতে দুটি কম্পিউটার ল্যাব, সাতটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং একটি মুক্তিযুদ্ধ কর্নার রয়েছে। শিক্ষার্থী ভরপুর ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় বসে থাকতে দেখা গেলেও শিক্ষকের দেখা মিলছে না। পাঠদানের বিষয়ে জানতে চাইলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান নাহিদ জানায়, ‘স্যার পড়া দিয়ে অন্য ক্লাসে গেছেন, আবার এসে পড়া নেবেন, স্যাররা এভাবেই আমাদের পড়ান।
অভিভাবক শিশির দেবসহ অনেকেই জানান, বালাগঞ্জ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী রাজনগর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে আসছে। ক্লাস পরীক্ষায় নামমাত্র পাশ করে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত্ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যদিও স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক খুবই পরিশ্রম করে পাঠদান করাচ্ছেন, তাই শিগগিরই শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
বালাগঞ্জ সরকারি ডি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ২৫ জন শিক্ষকের জায়গায় মাত্র ১০ জন কর্মরত থাকায় পাঠদান করাতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জরুরিভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুলটি সরকারিকরণ হয়েছে কিন্তু এখনো শিক্ষক আত্তীকরণের অনুমোদন হয়নি। আত্তীকরণ হয়ে গেলে সরকারিভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
