এমবাপ্পেকে নিয়ে ভাবছে রিয়াল

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৩

স্পোর্টস ডেস্ক

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আগামী গ্রীষ্মে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে রিয়াল মাদ্রিদে সই করাতে নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। ফরাসি এই স্ট্রাইকার গত মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারি সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে হ্যাটট্রিক করেন। বিরতির পর বদলি হিসেবে মাঠে নামা এমবাপ্পে ২৩ মিনিটের ব্যবধানে গোলগুলো করলে ক্লাব ব্রাগার বিরুদ্ধে ৫-০ গোলে জয়ী হয় পিএসজি।

এমবাপ্পে সর্বশেষ নৈপুণ্যের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে কমবয়সি হিসেবে ১৫ গোল করে লিওনেল মেসির আগের রেকর্ডটি ভেঙে দেন। ফরাসি এই স্ট্রাইকার দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে শেষদিকে গোলগুলো করেন। মাঠে নামার আট মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান তিনি। সবমিলিয়ে মাত্র ২৩ মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত প্রতি ৭৮ মিনিটে এমবাপ্পে একটি করে গোল কিংবা গোলের জোগান দিয়ে চলেছেন। তার এ নৈপুণ্য নজর কাড়ে রিয়াল সভাপতি পেরেজের। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ার পর যিনি স্প্যানিশ ক্লাবটিকে বড়োমাপের কোনো তারকানির্ভরতা এনে দিতে পারেননি। এখন তিনি তাই দীর্ঘমেয়াদে এমবাপ্পের কথা ভাবছেন। এ কারণেই পিএসজির খেলাটির পরপরই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রিয়াল পরিচালকদের লেখেন,‘আজ রাতে কিলিয়ান এমবাপ্পের খেলা দেখেছেন কি?’ এরপর তাদের মধ্যে স্ট্রাইকারটিকে নিয়ে অনেকক্ষণ বার্তা চালাচালি হয় বলে জানায় এএস পত্রিকা।

 স্পেনের এই ক্রীড়া পত্রিকাটির মতে, পেরেজ মনস্থির করে ফেলেছেন যে মাত্র ২০ বছর বয়সি এই খেলোয়াড়টিই হতে পারে তার ভবিষ্যত্ গ্যালাকটিকোর কেন্দ্র। যেমনটি হয়েছিল একসময় ক্রিশ্চিয়ানো, জিদান কিংবা রোনাল্ডোকে ঘিরে। তবে এমবাপ্পেকে আনা যে কঠিন কাজ সেটাও জানেন রিয়াল সভাপতি। বিশেষ করে পিএসজি এমন একটি ক্লাব যারা খেলোয়াড় বিক্রি করতে চায় না। গেল গ্রীষ্মের দলবদলের সময়ও তারা নেইমারকে ন্যু ক্যাম্পে ফিরতে দেয়নি। তবে ফ্লোরেন্তিনো ও পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফির মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। পিএসজি এই ফরাসির জন্য আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন ইউরো চাইতে পারে। এ পরিমাণ অর্থ হলো গত গ্রীষ্মে রিয়ালের কেনা এডেন হ্যাজার্ড (১০০), জোভিচ (৬০), মিলিতাও (৫০), মেন্ডি (৪৮) ও রড্রিগোর (৪৫) সমান প্রায়।

বর্তমানে এমবাপ্পের সঙ্গে পিএসজি কোচ থমাস টুখেলের কিছুটা টানাপোড়েন যাচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলাটিতে তাকে মাঠে বসিয়ে রাখাটা পছন্দ হয়নি এমবাপ্পের। এ কারণে তিনি পরে বলেন,‘আমি খেলাটিতে শুরুতেই নামতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি পরবর্তীতে দেখিয়ে দিই যে আমাকে ব্যবহার না করাটা কোচের জন্য কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে।’

জার্মান এই কোচ গেল মৌসুমেও ফরাসি লিগে তাকে নিয়মিত খেলাননি। তারপরও স্ট্রাইকারটির গোল ছিল ৩৩টি। অথচ ৩৬ গোল নিয়ে লিওনেল মেসি ইউরোপের লিগগুলোর সর্বাধিক গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন স্যু জিতে নেন। এদিকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা রিভালডো বলেছেন এমবাপ্পেকে মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানোর মানে যেতে হলে স্পেনে যেতে হবে।