সরকারি খাস খালে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য পুনঃ খনন করায় শত শত মূল্যবান ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলা মত্স্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত করায় অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এমন দাবি করে ভুক্তভোগী কৃষক মাতিন মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর বরাবর লিখিত আবেদনে অভিযোগ করেছেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন রোমজাইপুর এলাকায় ভারানিয়া (চামারখালী) খাল খননের সময় ওই গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিন মোল্যার পুত্র মো. আ. মাতিন মোল্যার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ছোটকাটালি মৌজার ২.৫৮ একর জমির ওপর বাগানবাড়ি ও মত্স্যঘেরের একাংশ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার খনন যন্ত্র দ্বারা গাছপালা উপড়ে ফেলে ও গুঁড়িয়ে দেয়। এতে মত্স্যঘেরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। লিখিত অভিযোগে আরও জানানো হয়, এসব পরিবারের বাগানে থাকা মূল্যবান মেহগনি, বেল, নিম, গাব, আম, জাম, নারকেল, লেবু, সিরিস, ছফেদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১২শ ৪০টি গাছ উপড়ে ও গুঁড়িয়ে নষ্ট করা হয় এবং মত্স্যঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এতে তার প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে রমজাইপুর গ্রামের মোস্তফা শেখ, হোসাইন গাজী, আবু হানিফ শেখ, আনার আলী ফকির, বারেক মোল্ল্যা ও দেলোয়ারসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জমির মালিক জানান, তাদের ও সামান্য ভিটেমাটি ও গাছপালা কেটে ফেলায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ চাইলে উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইফুজ্জামান-এর কাছে ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল জানান, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলেছি। আমাদের সরকারি সার্ভেয়ার ও তহশীলদার পাঠিয়ে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে কিনা সেটা নিরূপণ করার চেষ্টা করছি ।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মো. আবু হানিফ জানান, আমি নতুন এসেছি। বিস্তারিত কিছু জানি না। বাগেরহাটের পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রিফাত জামিল মুঠোফোনে জানান, আবেদনকারিগণ যদি প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তবে ক্ষতি নির্ধারণপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
