বাগেরহাট শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে কোম্পানির কার্যালয়

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০১

ভাড়ার টাকায় চলছে একাডেমি

 বাগেরহাট প্রতিনিধি                              

প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পেয়ে অর্থ সংকটে ভুগতে থাকা বাগেরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির এখন বেহাল অবস্থা। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পেয়ে একাডেমি ভবনের একমাত্র হলরুমটি একটি কোম্পানির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এখন হলরুমটিতে চলছে ঐ কোম্পানির অফিস কার্যক্রম। আর ভাড়ার টাকার একটা অংশ দিয়ে চলছে একাডেমির কার্যক্রম। বাগেরহাট শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ বলছেন, ১৩ বছর আগে নির্মিত একাডেমি ভবনটির এখন নাজুক অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না করায় হলরুমটি তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে ৭৫০ জন দর্শক ধারণক্ষমতার হলরুমটি ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতো না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৩ বছরে এ একাডেমি ভবনটিতে কোনো সংস্কার করা হয়নি। হলরুমটির একপাশে একটি কক্ষে ঐ কোম্পানির মালিক সৈয়দ মিজানুর রহমান তার অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া অযত্ন-অবহেলায় হলরুমের চেয়ারগুলো পড়ে আছে। বর্তমানে এ একাডেমিতে কার্যক্রম বলতে সংগীত, নৃত্য, নাটক, তবলা ও চারুকলা প্রশিক্ষণ চলছে। এ বিভাগে প্রায় ২০০ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। একাডেমির প্রশিক্ষক ও তালযন্ত্র সহকারী হিসেবে ১০ জন কর্মরত রয়েছেন; যাদের ২ হাজার ৪০০ টাকার নামমাত্র সম্মানী দেওয়া হয়। 

ভাড়া নেওয়া সপ্তসি ইন্টারন্যাশনালের মালিক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, এ হলরুমে আমরা প্রায় ১৭ মাস ধরে আছি। মূলত বিভিন্ন পুতুলে হেয়ার প্লানটেশন কাজ করি, যেগুলো জাপান ও চায়নার কাছে রপ্তানি করি। 

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, শিল্পকলা একাডেমি ভবন পরিদর্শন করেছি। ভবনটি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ভবনটি সংস্কার করার মতো অবস্থায় নেই। নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। হলরুমটি ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।