সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ডলুরা এলাকায় ইমিগ্রেশন ও শুল্কবন্দর স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও বর্তমানে হালুয়াঘাটে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় ডলুরায় শুল্কবন্দর স্থাপনের বিষয়টি ঝুলে আছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এই শুল্কবন্দর স্থাপন হলে দুই দেশই বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে। ডলুরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। অবশ্য সিলেট কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনার ড. গোলাম মুনির ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা এটি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’
সূত্র জানায়, ডলুরায় শুল্কবন্দর চালু করতে ভারত ও বাংলাদেশ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয় ১৯৯৯ সালে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য এটি চালু হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সীমান্তের ঐ পাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় তখন আর আমদানি-রপ্তানি শুরু করা যায়নি। এদিকে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ডলুরা এলাকায় মতোবিনিময় সভা করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেট কাস্টমস অফিস থেকে ১০ একর জমির জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরবর্তীতে ডলুরা শুল্কবন্দরের জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতায় থাকা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বেটাগাঁও মৌজার ৪৫ নম্বর জেএল এর সরকারি খাস খতিয়ানের ১ নম্বর দাগের দশমিক ৪০ একর এবং ২ নম্বর দাগের ৯ দশমিক ৬০ একর জমি ডলুরা শুল্কবন্দরের জন্য নির্ধারণ করা হয় এবং জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। বিগত ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে জমির মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাবনা ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া শুরু হলেও অবকাঠামোর অভাবে এখানে ইমিগ্রেশনসহ শুল্কবন্দর স্থাপনে দীর্ঘসূত্রিতা পিছু ছাড়ছে না। অর্থাত্ হালুয়াঘাটে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়টিও জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আপাতত এখানে ফেরির ব্যবস্থা করলে আমদানি-রপ্তানির জন্য ব্যবহূত যানবাহন চলতে পারে।
এলজিইডির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ জানান, সুরমার ওপর হালুয়াঘাটে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা এলজিইডির সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।
০
