অপকর্ম করলে শাস্তি পেতে হবে :কাদের

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৭

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পর একটি শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। কারও স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলা শুদ্ধি অভিযান সারা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার সত্সাহস আছে। দলের কেউ অপকর্ম করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। আমাদের নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কী কঠোর, শুদ্ধি অভিযানে তা তিনি প্রমাণ করেছেন।’ গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচতে পারে না, তেমনি জনগণ ছাড়াও আওয়ামী লীগ বাঁচতে পারবে না। জনগণকে আমাদের সঙ্গে রাখতে হবে।’ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে তাকে কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা নেত্রীর নির্দেশ। সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সম্মেলনের কাজ করবে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিল আসছে। সম্মেলন মানেই কিছু নতুন মুখ আসবে। কাউকে আমরা রিটায়ারমেন্ট দিই না, দায়িত্বে পরিবর্তন হয়। শক্তিশালী দল ছাড়া শক্তিশালী সরকার হয় না। দলকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত সম্মেলন দরকার।’ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, আপনারা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিন। আমরা তারিখ পরে জানাব। সিটি করপোরেশন নির্বাচন এগিয়ে আসছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে, সম্ভাব্য তারিখ জেনে আমরা সম্মেলনের তারিখ জানাব। প্রার্থী বিষয়ে নেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।’ সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মনোনয়ন বোর্ড বসবে। নেত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন কারা মেয়র প্রার্থী হবেন। তবে একক কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে আপনারা আলাপ-আলোচনা করুন, সিদ্ধান্ত নিন।’ তিনি বলেন, এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রতিপক্ষ আটঘাট বেঁধে নির্বাচনে নামবে। তারা ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক শক্তি আছে তাদের। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে দুর্বল মনে করবেন না। প্রতিপক্ষ আর কিছু না পারুক ষড়যন্ত্রে ওস্তাদ, বিএনপি ষড়যন্ত্রে ওস্তাদ। আপনারা থানায়-থানায়, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে কর্মিসভা করুন। সরকারের বিরুদ্ধে অপ্রচারের জবাব দিতে হবে। এই সরকার অপকর্মের ব্যাপারে অতীতের সরকারের মতো নির্বিকার নয়। এখানে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশে সীমাহীন উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু দলীয় পরিচয়ে দু-একজন মাস্তানের জন্য আমাদের কাজ যেন ম্লান হয়ে না যায়। বসন্তের কোকিলদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় থাকার পার্টি নয়। জনগণের ইচ্ছার বাইরে ক্ষমতায় থাকার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।’ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নাম না নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মাঝে মাঝে নিজেদের অ্যালায়েন্সের কেউ কেউ উলটাপালটা কথা বলেন। সরকারকে দুর্বল ভাববেন না। সততার ভিত্তির ওপর, জনগণের ইচ্ছার ওপর নেত্রী দাঁড়িয়ে আছেন।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচিত হবে। দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকে আরো শক্তিশালী এবং গতিশীল করতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি করা হবে। তিনি বলেন, নেতৃত্বের পরিবর্তন হলে দল শক্তিশালী হয়। এখন থেকে থানায়-থানায়, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে কর্মিসভা করতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে অপ্রচারের জবাব দিতে হবে। যার ভোগের লিপসা আছে তার দলে দরকার নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। এখানে বিতর্কিত লোক এনে দল ভারী করার দরকার নেই। খারাপ লোক দিয়ে দল ভারী করলে অন্ধকার এলে বাতি জ্বালিয়ে তাদের পাওয়া যাবে না।