চট্টগ্রাম ওয়াসায় অনিয়ম ও দুর্নীতি চিহ্নিত করতে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম খুবই ধীরগতিতে চলছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমিটিকে দেওয়া বর্ধিত সময়ও পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।
কমিটির কয়েক জন সদস্য জানান, ইতিমধ্যে কমিটির বৈঠক কয়েকবার হয়েছে। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কমিটিকে প্রথমে দুই মাস সময় দেওয়া হলেও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আরো দুই মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে সেই সময়ও পার হয়ে গেছে।
ওয়াসা পরিচালনা বোর্ড প্রথমে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করলেও পরবর্তীতে সদস্য বাড়িয়ে পাঁচ সদস্য করা হয়। এ ব্যাপারে ওয়াসা পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, কমিটির উল্লেখ্যযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমরা আরেক দফা দুই মাস সময় বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। তবে এখনো আমরা রিপোর্ট পাইনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির অপর এক সদস্য জানান, যে প্রক্রিয়ায় চলছে তাতে তদন্ত কাজ কবে শেষ হবে তা বলা মুশকিল। এখনো প্রাথমিক কাজও শুরু করা যায়নি। মিটিং হয়েছে কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ হয়নি।
কমিটি সূত্র জানায়, কমিটিকে যেসব বিষয় চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি, পানি উত্পাদন নিয়ে হিসাবে গড়মিল, বিল আদায়ে অনিয়ম, বকেয়া অনাদায় ও মিটারবিহীন পানির সংযোগ ইত্যাদি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। আর ওয়াসায় বর্তমানে ৭৩ হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিলযোগ্য সংযোগ রয়েছে ৬৮ হাজার ৩০০। ১০ হাজার সংযোগে দীর্ঘদিন যাবত্ মিটার না থাকায় গড়ে বিল দেওয়া হচ্ছে। এসব গ্রাহককে মিটারের আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
কমিটির সদস্য এ.এফ.কবির আহমদ মানিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মকে তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছি। শ্রমিকের অসন্তোষ, নতুন পাইপ লাইন বসানোর পরও সিস্টেম লস কেন ৩০ শতাংশ হচ্ছে, মিটার থাকলেও কেন গড়ে বিল হচ্ছে, পানির উত্পাদন হিসাবে গড়মিল, বকেয়ার যে ইজা টানা হচ্ছে তা আদৌ বকেয়া রয়েছে কিনা এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছি। কয়েক দিনের মধ্যে কমিটির বৈঠক হবে।
