জঙ্গিবাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি রোধে দেশের চলমান শুদ্ধি অভিযানের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে মার্কিন পাঁচ সিনেটরের একটি প্রতিনিধিদল।
গতকাল শুক্রবার ফতুল্লায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কের কনভেনশন হলে পোশাকশিল্পের উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিনিধিদল তাদের মতামত ব্যক্ত করে। সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিকেএমইএ, চেম্বার অব কমার্স, বিএমএ, বার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে মার্কিন সিনেটররা ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর বেশ কয়েকটি আধুনিক মানের রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের নানা সুযোগ-সুবিধার কথা জেনে তারা খুশি হয়েছেন এবং দেশের পোশাকশিল্পের প্রশংসাও করেছেন। বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আরো এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র যাতে আরো ভালো ভূমিকা রাখতে পারে, সে ব্যাপারে নিজ দেশের শীর্ষপর্যায়ে সুপারিশ করবেন বলেও তারা আশ্বাস দেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলে সিনেটরদের মধ্যে ছিলেন লুইস আর সেপুল ভেদা, জেমস স্কৌফিস, জন সি লিউ, কেভিন এস পার্কার ও লেরয় কমরি। এবারই প্রথমবারের মতো তারা বাংলদেশে পরিদর্শনে এসেছেন।
পরে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান জানান, মার্কিন এই প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাতে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে এই সিনেটররা জানতে পারেন। সে অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছেন। শামীম ওসমান বলেন, ‘সিনেটরদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও ব্যাপাক আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের এই বিশাল অসহায় জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের দেশে ফিরে যাওয়া এবং সুন্দর জীবন যাপনেরও অধিকার রয়েছে। সে কারণে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করা উচিত বলে তাদের বুঝিয়েছি এবং তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।’ বাংলাদেশে মার্কিন প্রতিনিধিদলের এই সফরকে ফলপ্রসূ হিসেবে মনে করছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এ ধরনের সফর আরো ব্যাপকভাবে আয়োজন করতে পারলে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পাল্টে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
