g রুবেল কান্তি নাথ
v কোনো হাসির নাটক দেখলে, আমাদের হাসি পায় না। কলার খোসায় কেউ আছাড় খেয়ে পড়ে কোমর ভাঙলেই আমাদের হাসি পায়!
v বাংলা সিনেমায় নায়ক সাহেব সকল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত ডাব্বা পেয়েছে শুনলে, আমাদের হাসি পায় না। সকল পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছে শুনলেই আমাদের হাসি পায়!
v কোনো রাজাকারের উত্তরসূরি জনসভায় দেশপ্রেমের কথা বললে, আমাদের হাসি পায় না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা চাকরি না পেয়ে পথে পথে ঘুরলেই আমাদের হাসি পায়!
v অট্টালিকায় বাস করা জলহস্তীগুলো মানে, সাহেব-মেম ও বাচ্চাদের দেখলে আমাদের হাসি পায় না। রাস্তার পাশে বস্তিতে বাস করা নোংরা-কঙ্কালসার মানুষগুলোকে দেখলেই আমাদের হাসি পায়!
v মহান সংসদ অধিবেশনে শিক্ষিত সাংসদদের মুখে অশ্রাব্য খিস্তি-খেউর শুনলে, আমাদের হাসি পায় না। কোনো অশিক্ষিত লোক হোটেলের ওয়েটারকে ‘ওয়াটার’ বললেই আমাদের হাসি পায়!
v জনগণের টাকা লুটেপুটে যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়, তাদের দেখলে আমাদের হাসি পায় না। কোনো ভুখা-নাঙ্গা মানুষ খেতে না পেয়ে ভিক্ষা করলে আমাদের হাসি পায়!
v ছেলেপুলে বখাটে হয়ে কোনো নারীর সম্ভ্রম নিয়ে টানাটানি করলে, আমাদের হাসি পায় না। তারা ফুটবল-ক্রিকেট-গোল্লাছুট খেলা নিয়ে মেতে থাকলে আমাদের হাসি পায়!
v ট্রাক-বাস ড্রাইভাররা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে কোনো পথযাত্রীকে রাস্তায় পিষে ফেললে, আমাদের হাসি পায় না। তারা আস্তে ও নিয়ম মেনে গাড়ি চালালেই আমাদের হাসি পায়!
v প্রেমের সফল পরিণতি বিয়ে করতে যেয়ে বাবা-মায়ের অনুমতি না পেয়ে কোনো তরুণ-তরুণী আত্মহত্যা করলে, আমাদের হাসি পায় না। কোনো তরুণ-তরুণী প্রেম করে বিয়ে করতে চাইলেই আমাদের হাসি পায়!
v কোনো ছেলেকে স্কুল-কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েদের টিজ করতে দেখলে, আমাদের হাসি পায় না। ‘ঠাট্টা’ পড়তে দেখলেই আমাদের হাসি পায়!
কাউকে খারাপ কোনো কাজ করতে দেখলে, আমাদের হাসি পায় না। ভালো কোনো কাজ করতে দেখলেই আমাদের হাসি পায়। তাচ্ছিল্যের হাসি!
কারণ, আমরা দিনকে দিন মানুষ থেকে অমানুষে হতে চলেছি!
