বাংলাদেশে ৪১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও সাংবাদিকেরা ও টেলিভিশন মিডিয়ারা মিলে কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে যেগুলোর নাম প্রায়ই পেপারে আসে বা টিভিতে দেখায়। এবার সেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানাচ্ছেন ঠাট্টারু সুদিপ্ত কুমার নাগ
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় :আসলে এই নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই কিন্তু কিছু টিভি চ্যানেল ও পেপার ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ’-এর নাম জানে না। তারা নিজেদের মতো করে একে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বলে।
সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় :আপনি সিলেটে যেয়ে জীবনেও এই নামে বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাবেন না। আমাদের দেশের বিশিষ্ট কিছু সাংবাদিক ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-কে সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় নামে লেখে।
খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়/খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় :আমাদের দেশের শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় প্রায় সময়ই ‘খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-কে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে খবর ছাপায়।
শেরেবাংলা বিশ্ববিদ্যালয় :এটা কোথায় অবস্থিত সেটা আপনি খুঁজে পাবেন না। আসলে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কৃষি’ শব্দটি বাদ দিয়ে অনেক সাংবাদিকেরা এভাবে লেখে।
রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় :আমাদের দেশের কিছু কিছু সাংবাদিক ‘প্রকৌশল’ শব্দের জায়গায় ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি ব্যবহার করে পেটের ভাত হজম করেন। এভাবে প্রায় সময়ই বিভিন্ন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে এরা লেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়/পটুয়াখালী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়/দুমকি বিশ্ববিদ্যালয় :এই এলাকার সাংবাদিকদের ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ এত বড় নাম লিখতে হয়তো কয়েকবার কলম ভেঙে যায়, নাহলে এরা নিজের বাপ মায়ের নাম ভুলে যায়। এখানকার বেশিরভাগ সাংবাদিক আজ পর্যন্ত খুবই কমবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সঠিকভাবে লিখতে পেরেছে। স্থানীয় সাংবাদিকেরা তো পেপারে ‘দুমকি কলেজ’ লেখে। এরা ভাবে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্পূর্ণ লিখলে হয়তো মাসের বেতন থেকে টাকা কেটে নেবে। বাসের হেলপাররা একে ‘পাগলা বিশ্ববিদ্যালয়’ বলে ডাকে। নতুন কোনো পর্যটক বাসের হেলপারের এমন কথা শুনলে মনে করবে যে, এটা মনে হয় পাগলদের জন্য আলাদা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়!
