‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’
দেশব্যাপী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিষয় হলো ‘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’। এই ধারাবাহিক মূল্যায়নে দুইটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এক. এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি, দুই. ভিডিও চিত্র ধারণ। সম্ভাব্য নমুনা প্রশ্নের আলোকে মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য, স্মৃতিচারণ, সাহসিকতার গল্প নিয়ে শিক্ষার্থীরা তৈরি করছে প্রতিবেদন এবং ভিডিও। আর এর মধ্য থেকে বাছাই করা প্রতিবেদনগুলো দৈনিক ইত্তেফাক-এর শিক্ষা বিষয়ক পাতা অনুশীলন-এ প্রকাশিত হবে ধারাবাহিকভাবে। আজ ময়মনসিংহের লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী, আ: হেকিম,আব্দুল মান্নান, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুস সামাদ এবং প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম -এর সাক্ষাত্কার থেকে তৈরি করা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো। প্রশ্নকর্তা, ভিডিও এবং প্রতিবেদন তৈরিতে ছিলো সপ্তম শ্রেণির সিমিয়া আক্তার, জুয়েনা আক্তার,লিমা আক্তার আ: হান্নান,মাহিনুর মাহিলিমা আক্তার,মিতু আক্তার,মেহেদী ইসলাম,ইমরান মিয়া,মিজান,লাভলী আক্তার। সাক্ষাত্কার কার্যক্রমে সমন্বয়কারী হিসাবে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমেনা বেগম চম্পা । লিখিত প্রতিবেদন পাঠানোর ঠিকানা ই-মেইল: [email protected] যোগাযোগ:০১৭১৪৭০৫৭২৭
বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী
বাংলা শিক্ষক আমিনুল হকের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা প্রথম যার সাক্ষাত্কার গ্রহণ করলো তাঁর বাড়ি স্কুল হতে দেড় কিলোমিটার দূরে মহজমপুর গ্রামে। তিনি হলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী। তিনি ভারতের মেঘালয় প্রদেশে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চারপাশে তিনি যুদ্ধ করেন। যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ২৯ বছর। তিনি বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে দেখেছেন রেসকোর্স ময়দানে এবং ৭ই মার্চ ভাষণের পরই যুদ্ধের জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সহযোদ্ধা অনেকের নামই তাঁর মনে আছে। তার মধ্যে ছিলেন কাশেম, হেকিম,আলতো, হাসু , মমতাজ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ময়মনসিংহ রেল স্টেশনে রেল্ওয়ে থানার পিছনে কতগুলো লোককে এক সাথে লাইন ধরে গুলি করতে দেখেছেন। যাঁদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেন তাঁদের অনেককেই ফেরত নিয়ে আসতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম
সহকারি শিক্ষক কামরুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে একদল ছাত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী রাজগঞ্জ গ্রামের রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর । একসময় যুদ্ধের দামামা বেজে উঠে ,যুদ্ধে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করেও পারিবারিক কারণে তিনি যুদ্ধে যেতে পারেননি। তবে দরিদ্রদের রিলিফ প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় -খাবার, সেতু পারাপার যুব সমাজকে সংগঠিত করাসহ আরও অনেক কাজে জড়িত ছিলেন।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হেকিম
তিনি ভারতের তুরা ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নিয়ে ঢালু ক্যাম্পে পরে ঝিকাতলা ক্যাম্পে হয়ে ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধের আগে তিনি আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ৭ই মার্চের ভাষণ তাঁকে যুদ্ধে যেতে অণুপ্রেরণা জোগায়।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান
তিনি রতেরতুরা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০০ জনের একটা টিমের সাথে ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। তাঁর সাথে তাঁর আপন এক ভাই এবং চাচাত ভাই ছিলেন।
বীরমুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন
তিনি ৫ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন । ১৭ বছর বয়সে তিনি যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। ৩০ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীরা কথা বলে জানতে পারেন তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কথা। তিনি বঙ্গবন্ধুুকে দেখেননি যুদ্ধের সময় ছোট ছিলেন তবে লোক মরে থাকতে দেখছেন , তাঁর স্বামী মুক্তিযুদ্ধ করে পাক বাহিনীকে মেরেছে এটা ভেবেই তিনি গর্ববোধ করেন। তাঁর স্বামী যুদ্ধ থেকে এসে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মৃত্যুর পরও স্বামীর চাকরির পেনশন এবং প্রতিমাসে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান। যা দিয়ে ছেলে মেয়েদের মানুষ করছেন।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ
বাংলা শিক্ষক কামরুল হাসান রনির নেতৃত্বে যাঁর বাড়িতে শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল: স্কুল থেকে ১ কিলোমিটার দুরে রাঘবপুর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ-এর বাড়ি। তিনি বর্তমানে অসুস্থ । হাঁটাচলা বেশি করতে পারেন না। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ২৬-২৭ বছর। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে চাকরি ফেলে তিনি অনেক কষ্টে হেঁটে হেঁটে ভারতে গিয়ে ভারতের তুরা এলাকায় থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশে এসে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে দেখেছেন তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একটি চেক আনার জন্য বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ময়মনসিংহ রেল স্টেশনে ছিলেন এ অবস্থায় একদিন রেল্ওয়ে থানার পিছনে অনেক লোককে একসাথে লাইন ধরে গুলি করতে দেখেছেন।
