নিজেই তৈরি করুন ই-কমার্স ওয়েবসাইট

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৪

মোজাহেদুল ইসলাম

 

ই-কমার্স বলতে আমরা সাধারণত বুঝি অনলাইনে কেনা-বেচার সাইটকে। আবার ইলেকট্রনিক কমার্সকেও ই-কমার্স বলা হয়। অনলাইনে কেনা-বেচার সাইট আপনি চাইলে নিজেও তৈরি করে নিতে পারেন। পাঠকদের সুবিধার্থে কীভাবে আপনি একটি ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে পারেন সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এ লেখায়। এ জন্য আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন আসলে ই-কমার্স কী?

 

ই-কমার্স কীভাবে শুরু করবেন

ই-কমার্স প্রধানত ইন্টারনেটভিত্তিক একটি সেবা। এখানে সারা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে থাকা মানুষ আপনার ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে সেখান থেকে পণ্য অর্ডার করে থাকবে। সুতরাং ই-কমার্স শুরুর জন্য আপনি যেসব পণ্য বিক্রি করবেন তার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে।

 

যে কারণে ই-কমার্সের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস

ই-কমার্সের জন্য কেনই বা ওয়ার্ডপ্রেস অন্য কোনো ওয়েব কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কেন নয়? এমন প্রশ্ন অনেক প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাথায় থাকতে পারে। তবে ওয়ার্ডপ্রেস এখানে ভালো পছন্দ হতে পারে খুব সহজে বোধগম্য ইন্টারফেস এর কারণে। অনলাইনে আপনি কোনো ডেভেলপারের কাছ থেকে ই-কমার্স সাইট বানিয়ে নিতে গেলে আপনি বেশির ভাগ সময় দেখবেন—তারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছে। যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস পুরোপুরিভাবে একটি ফ্রি বা ওপেন সোর্স সিএমএস তাই এটি ব্যবহার করে ই-কমার্স বানাতে অত্যন্ত কম অর্থ খরচ হয়। ওয়ার্ডপ্রেস সিকিউরিটির দিক দিয়ে অনেক শক্তপোক্ত হওয়ার কারণে এখানে গ্রাহকদের তথ্য নিরাপদ রাখার সম্ভব হয় এবং ই-কমার্স সাইট হ্যাক হওয়ার ভয় অনেক কম থাকে।

 

প্লাগিন ব্যবহার করে ই-কমার্স সাইট

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে খুবই সুন্দর একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব হয়েছে এই উকমার্স নামক প্লাগিনটির জন্য। উকমার্স ওয়ার্ডপ্রেস এর মূল প্রতিষ্ঠান অটোমেটিক এর তৈরি একটি গ্র্যান্ড ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন। এটি যে কোনো ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটকে ই-কমার্স রেডি করে তোলে।

প্রথমত আমাদেরকে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করে নিতে হবে আমাদের সার্ভার বা হোস্টিং প্যানেলে; আর কীভাবে এটি করতে হবে তা জানতে ক্লিক করতে পারেন। যাহোক, আমরা এখানে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল এর সময় বা পরে কোনো থীম বাছাই করব না। কারণ আমরা উকমার্স এর প্রদত্ত স্টোরফ্রন্ট থিমটি ব্যবহার করব।

ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল শেষ হয়ে গেলে, আমাদের ওয়ার্ডপ্রেসের এডমিন প্যানেল- তথা ড্যাসবোর্ডে প্রবেশ করতে হবে। আর এখানে থেকে আমরা প্লাগিনস তারপর সেখানে Add New-তে গিয়ে  WooCommerce লিখে সার্চ করব। তারপর সেই প্লাগিনটি ইনস্টল-এরপর অ্যাক্টিভেটেড করে নিব। এরপর আমাদের উকমার্স প্লাগিনটিকে সেটআপ করে নিতে হবে। আর এই সেটআপ এমন কোনো কঠিন বিষয় নয় যে, পয়েন্ট টু পয়েন্ট বলতে হবে। এখানে আপনার পেমেন্ট মেথড, শপ ঠিকানা, পেমেন্ট কারেন্সি, শিপিং চার্জ এসব দিয়ে সেটআপ করে নিতে হবে। সাইটকে অটোমেটিক এর আরেকটি সার্ভিস জেটপ্যাকের সঙ্গে কানেক্ট করতে বলবে।

এরপর প্লাগিন রেডি হয়ে গেলে, সাধারণত আমাদের উকমার্সের অফিসিয়াল একটি থিম স্টোরফ্রন্ট ব্যবহার করতে বলবে। এটি দেখতে খুবই সুন্দর, রেস্পনসিভ আর ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য ব্যাপকভাবে অপটিমাইজড মোটামোটি ফ্রি। তবে আপনি ফ্রি এবং পেইড আরো শত শত আরো দারুণ থিমস খুঁজে নিয়ে লাগাতে পারবেন সে ক্ষেত্রে সেগুলোর থিম এডিট-এর টিউটোরিয়াল আলাদা। আর আপনাকে সেজন্য সেসব থিমের ডকুমেন্টেশন অনুসরণ করতে হবে।

যাহোক, প্লাগিন রেডি হওয়ার পর আপনাকে স্টোরফ্রন্ট থিমকে কাস্টমাইজড করার জন্য বলা হবে। আর এটি করা খুবই সহজ। আপনি যখন খুশি তখন এই কাজটি করতে পারবেন। কেবল Appearance থেকে Customize এ চাপ দিলেই আপনি থিম এডিট করতে পারছেন।

ড্যাসবোর্ড থেকে নতুন কোনো প্রোডাক্ট যুক্ত করাও অনেক সহজ; আর এক্ষেত্রে Products ট্যাব থেকে Add New Product ক্লিক করে নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত করা যাবে। All Products থেকে আগের প্রোডাক্ট, নতুন প্রোডাক্ট সব দেখা যাবে এবং এগুলো ডিলিট বা এডিটও করা যাবে।

একইভাবে WooCommerce ট্যাব থেকে যাবতীয় অর্ডার থেকে শুরু করে, রিপোর্ট বা অর্ডার এর পরবর্তী অবস্থা বা স্ট্যাটাস ইত্যাদি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

উকমার্স মূলত কেবল ওয়ার্সপ্রেসেরই জন্য তৈরি একটি ওপেন সোর্স একটি সফটওয়্যার; আর যাকে প্লাগিন আকারে ওয়ার্ডপ্রেসের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেসকে পুরোপুরিভাবে একটি ই-কমার্স প্লাটফর্মে রূপান্তরিত করা যায়। আপনি একটি ই-কমার্স সাইটের জন্য এমন কোনো কিছু নেই, যা এখানে যুক্ত করতে পারবেন না বা খুঁজে পাবেন না। কেননা উকমার্সের জন্য আপনি ফ্রি, পেইড মিলে প্রায় সহস্রাধিক প্লাগিনস খুঁজে পাবেন। তাছাড়া এমন শত শত উকমার্স রেডি ওয়ার্ডপ্রেস থিম রয়েছে যেগুলোতে আরো অনেক ফিচার পাওয়া যায়।