বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যা করণীয়

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২০

শিক্ষাদানের মহান ব্রত যার কাজ তাকেই শিক্ষক বলা হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিতদেরই শিক্ষক বলা হয়। শিক্ষকদের জাতি গঠনের কারিগর বলা হয়। কেননা একজন আদর্শ শিক্ষকই পারেন তার অনুসারীদের জ্ঞান ও ন্যায় দীক্ষা দিতে। শিক্ষার্থীর মানবতাবোধকে জাগ্রত করে একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানকে সার্থকই করে তোলেন না, পাশাপাশি দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্ব্বিত করেন। স্বীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাজ হলো—নিয়মিত ক্লাস নিবেন, একাডেমিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন, গবেষণা করবেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করবেন, সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে মিলেমিশে একাডেমিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন, সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন, শিক্ষকদের অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিবেন ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু অন্য চিত্রও প্রতিফলিত হয়। যা সত্যিই কারো কাম্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন বিভাগে লক্ষ্য করা যায় শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং আছে। আমার প্রশ্ন হলো— আপনি বিভাগে গ্রুপিং করবেন নাকি একাডেমিক কাজ করবেন? শিক্ষকরা জাতির বিবেক তারা রাজনীতি করবে এটা খুবই ভালো কথা, তবে নোংরা রাজনীতি করে রাজনীতিকে কলুষিত করার কথা তো আপনার না? বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে অনেক কাজ নিয়ে থাকতে হয়, কিছু শিক্ষক আছে তারা কাজও করবে না আবার যারা কাজ করেন তাদের নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা করেন যা অত্যন্ত হতাশা ব্যঞ্জক। কিছু শিক্ষক আছেন যারা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে অন্য শিক্ষকের ভালো কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার নামে বাজে সমালোচনা করেন, সেটা খুবই দুঃখজনক। আপনার সঙ্গে আপনার সহকর্মীর দ্বন্দ্ব আছে সেটা আপনাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক না? সেটা কেনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসবে? পরচর্চা, পরনিন্দা করা ভালো কাজ না এগুলো শিক্ষকরাই আমাদের শিক্ষা দিবে কিন্তু কিছু কিছু শিক্ষক আছেন যারা নিজেরাই শিক্ষার্থীদের কাছে পরচর্চা, পরনিন্দা করেন। পরচর্চা, পরনিন্দা করা শুরু করলে শেষ হয় না যার ফলশ্রুতিতে দেখা যায় পাঠদানের সময় শেষ, অন্য শিক্ষক ততক্ষণে  ক্লাস নিতে দরজায় হাজির, আর এদিকে পরনিন্দা চর্চাকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন—আজ তোমাদের পড়াতেই পারলাম না। গ্রুপিং নামক অপসংস্কৃতির জাল ভেদ করে আমাদের মুক্ত হতে হবে।

লেখালেখি, গবেষণা, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়ে আপনি যদি নাও ভাবেন তবে কোনো সমস্যা নেই কিন্তু যারা লেখালেখি, গবেষণা, জ্ঞানচর্চাসহ দেশের সামগ্রিক দিক নিয়ে ভাবেন, কাজ করেন তাদের এই মহত্ কাজে ঈর্ষান্বিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো করতে আপনার যোগ্যতা নেই ভালো কথা, তাই বলে যারা এগুলো করে তাদের প্রতি হিংসায় জ্বলতে হবে কেন? শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে এমন নীতিবহির্ভূত কাজ থেকে শিক্ষকদের বেড়িয়ে আসতে হবে।

কিছু শিক্ষক আছেন যারা স্টুডেন্ট পলিটিক্স করতে ব্যস্ত, ছাত্রছাত্রীদের কাছে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে ছেলেমেয়েদের বাসায় দাওয়াত দিয়ে খাওয়া-দাওয়া করায়। খাওয়া-দাওয়া করানো মন্দ কাজ না, তবে উদ্দেশ্য যদি অসত্ থাকে তা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। একই পদে চাকরি করছেন অথচ আপনার অন্য এক সহকর্মী যখন স্বীয় যোগ্যতা ও কর্মকাণ্ডে আপনার চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা দেখে হিংসার অনলে না পুড়ে বরং কাজের মধ্যে আত্মনিয়োগ করুন। সর্বোপরি শিক্ষকদের গ্রুপিং নামক অপসংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর পরিমণ্ডল তৈরি হোক এমনটাই প্রত্যাশা করি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়