জানা-অজানা

ডোডো

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২২

 

ডোডো, একটি পাখির নাম। মরিশাস ভারত মহাসাগরের বুকে একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। আফ্রিকা মহাদেশ থেকে খুব একটা দূরে নয়। এখানকারই পাখি ডোডো। কিন্তু আজ নেই, তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না কোথাও। প্রকৃতি থেকে তিন শ বছরের বেশি আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ডোডো দেখতে বিরাট ছিল। মোটা-সোটা টার্কির চেয়ে সামান্য বড়ো। এদের স্থুল ডানার কারণে এরা যেমন উড়তে পারত না, তেমনি ছোট ছোট পা নিয়ে দৌড়াতেও পারত না। ফলে এরা হাঁটত হেলেদুলে। ডোডো পাখি ১৫০৭ সালের আগে মরিশাসে খুব আরাম-আয়েশে রাজত্ব করত, তার কারণ সেখানে তখনো কোনো জনবসতি গড়ে ওঠেনি। তারপর এই দ্বীপে দূর-দূরান্তে যাওয়া জাহাজের নাবিকেরা খাবার পানি ও খাবারের জন্য যাত্রাবিরতি শুরু করল। তখন থেকেই ডোডো পাখিরা নাবিকদের শিকারে বিপন্ন হয়ে পড়ল এবং ঐ সময়েই নাবিকরা ডজনকে ডজন ডোডো পাখি জাহাজে করে নিয়ে গেল এবং তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হলো। পরে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে যখন মরিশাস দ্বীপে মানুষের রাজত্ব শুরু হলো, তখনও ডোডো শিকার অব্যাহত থাকল। ডোডো পাখিদের আর লুকানোর পথ ও আত্মরক্ষার কোনো উপায়ই থাকল না। তারপর আর কী, ঐ সময়ই মরিশাস দ্বীপ তথা গোটা পৃথিবী থেকেই ডোডো পাখি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।

তিন শ বছর আগে লুপ্ত হয়ে যাওয়া মরিশাস দ্বীপের ডোডো পাখি হারিয়ে গেলেও আজো তার ছবি আঁকা রয়েছে পৃথিবীতে। জাহাঙ্গীরনামায় ওস্তাদ মনসুর ডোডের ছবি এঁকেছিলেন। ১৯৫৯ সালে হেলসিংকিতে বিশ্ব পক্ষী বিজ্ঞান সম্মেলনে রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ড. আইভানভ আবিষ্কৃত ডোডো পাখির ছবি রীতিমত আলোড়ন তোলে। কারণ ফ্লেমিশ চিত্রকর রোয়েল্যান্ড স্যাভেরির আঁকা একটি ছবি ছাড়া ডোডো পাখির আর কোনো ছবি পৃথিবীতে আছে বলে জানা ছিল না। মোগল শৈলীর এ ছবি লেনিনগ্রাদের একাডেমি অব সায়েন্সেসের লাইব্রেরিতে পারসিক ও মোগল ছবি এবং ক্যালিগ্রাফের এক বিরাট অ্যালবামে দেখতে পান।

১৬৮১ সালে বিলুুপ্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত ডোডো পাখি ইউরোপে যথেষ্ট উত্সাহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করে। ইউরোপীয় পর্যটক পিটার মান্তি ১৬২৮ সালে সুরাতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফ্যাক্টরিতে দুটি ডোডো পাখি দেখতে পান। তাই অনেকের অনুমান, ১৬২৭ সালে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর আগে মরিশাসের এই অদ্ভুত পাখি ডোডো নিশ্চয় জাহাঙ্গীরের রাজদরবারে আনা হয়েছিল। যা দেখে ওস্তাদ মনসুর এ ছবি তৈরি করেছিলেন।