কালুখালী ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

উদ্বোধনের দুই বছরেও চালু হয়নি আন্তঃবিভাগ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩১

মো. মাহ্ফুজুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর কালুখালী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রায় দুই বছরেও জনবল ও যন্ত্রাংশ সংকটে চালু হয়নি আন্তঃবিভাগ চিকিত্সা সেবা। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানিয়েছেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল ইসলাম।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি কালুখালী উপজেলাতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের উদ্বোধন হয়। রোগীদের জন্য বিছানা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্সরে মেশিন, প্যাথলজি, আলট্রাসনোগ্রাফী, ইসিজি, রেডিওলজি টেকনোলজির যন্ত্রাংশ নেই। অপারেশন থিয়েটারটি রয়েছে ফাঁকা। এছাড়া ডেন্টাল, মেডিক্যাল অফিসার, গাইনি কনসালটেন্ট, মেডিসিন কনসালটেন্টসহ বিভিন্ন বিভাগের দরজায় তালা ঝোলানো রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

মাহেন্দ্রপুর গ্রামের লুত্ফর রহমান বলেন, এখানে গত দুই বছর যাবত্ হাসপাতাল চালু হয়েছে। শুধু লোকাল ওষুধপত্রই পাই। এখানে কোনো ভর্তি  নেই, এক্সরে মেশিন  নেই, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জিনিস  নেই। আমাদের রাজবাড়ী শহরে বা ফরিদপুর জেলায় যেতে হয়। মাঝবাড়ী ইউনিয়ন থেকে আগত গর্ভবতী হাসিনা বেগম, মদাপুর ইউনিয়নের মরিয়ম বেগমসহ একাধিক রোগী জানান, আমি হাসপাতালে এসে গাইনি ডাক্তার পাইনি। এই হাসপাতালে অপারেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।

কালুখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটু জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অতিদ্রুতই আন্তঃবিভাগ চালু করা প্রয়োজন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আমি রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিমকে বিষয়টি জানিয়েছি। এ ব্যাপারে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. খোন্দকার মো. আবু জালাল বলেন, ২০১৮ সালের উদ্বোধনের পর থেকেই বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী দেখা হলেও, আন্তঃবিভাগের সেবা চালু করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এই ৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের বেড এবং বেডের আনুষঙ্গিক সকল জিনিসপত্র চলে আসছে। কিন্তু আন্তঃবিভাগ চালু করতে গেলে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় যে লোকবল ও টেকনিক্যাল পার্সন, ল্যাবরেটরির বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এক্সরে মেশিন, ডেন্টাল ইউনিট, ল্যাবরেটরি সেটআপ, অপারেশন থিয়েটার সেটআপ প্রয়োজন সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি। আমাদের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ড্রাইভার সংকটে জরুরিভিত্তিতে কোনো রোগীকে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মো. মাহ্ফুজার রহমান সরকার বলেন, কালুখালী উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আমাদের প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও এখন পর্যন্ত আন্তঃবিভাগ চালু সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের জন্য এক্সরে মেশনি, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সকল যন্ত্রপাতির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি এবং যোগাযোগ করেছি। তবে হাসপাতালে রোগী ভর্তি রাখতে তাদের খাবারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।