৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও চৌহালী সংবাদদাতা
ইলিশ প্রজননের মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বসে নেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, চৌহালী ও এনায়েতপুর থানার জেলেরা। সর্বক্ষণ যমুনা নদী জুড়ে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইলিশ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
প্রতিবারের ন্যায় ইলিশের বংশ বিস্তারে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সরেজমিনে যমুনা নদীর সদিয়াচাঁদপুর, জালালপুর, সোনাতনী, কৈজুরী, ঘোরজান ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, নদী জুড়ে অবাদে দেওয়া হয়েছে ক্যারেন্ট জাল। নৌকা করে ফেলা জালে অসংখ্য মা-ইলিশ ছাড়াচ্ছে জেলেরা।
এ সময় সোনাতনী ইউনিয়নের চানতারা গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক, জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুরের জেলে রাসেল মিয়া, পাকড়তলার কুড়ান, ঘোরজান ইউনিয়নের চর ধিতপুরের রওশন আলী সেখ জানান, থানা পুলিশের দালালদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা দিয়েই মাছ ধরছি। আমাদের অভাব। প্রতিবার প্রচুর ইলিশ আসে বলে এ সময়টার জন্যই অপেক্ষা করি আমরা। তাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেই মাছ ধরছি।
এদিকে চৌহালী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হাজী আব্দুল আলীম অভিযোগ করে জানান, নদী জুড়ে অবাধে মা-ইলিশ নিধন চলছে। ইউএনও এ বিষয়ে যথাযথ প্রশংসার দাবি রাখলেও কিছু পুলিশের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। অধিকাংশ জেলে কিছু অসাধু পুলিশকে টাকা দিয়ে মাছ শিকার করছে। দু-একজন জনপ্রতিনিধিও এজন্য দায়ী।
চৌহালী থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস, এনায়েতপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম, শাহজাদপুর থানার ওসি তদন্ত শহিদুল ইসলাম পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অসত্য দাবি করে জানান, অন্য বারের চেয়ে এবার কয়েক গুণ বেশি তত্পরতা নিয়ে পুলিশ ইলিশ রক্ষায় কাজ করছে। টাকা নেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন। আমরা নিজেরা কখনো একা একা অভিযানে যাই না। আমরা মত্স্য কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমেই অভিযান চালাই।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামচুদ্দোহা ও চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, আমরা দিন রাত জেলেদের মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। এ পর্যন্ত চৌহালীতে ৭৪ জনকে এবং শাহজাদপুরে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, ৩ লাখ মিটার জাল পোড়ানোর পাশাপাশি জব্দ করা ৩০০ কেজি ইলিশ অসহায়দের মাঝে বিতরণ করেছি। এছাড়া দিন-রাত আমরা অভিযান অব্যাহত রাখছি।
