শুরুতে শনাক্ত হলে ৫০ ভাগ কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৮

বিশ্বে মৃত্যুর ৬ষ্ঠ কারণ কিডনি রোগ। যাতে ৮৫ কোটি লোক ভুগছে। বাংলাদেশে ২ কোটি লোক কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এ রোগে বছরে মারা যায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। মূলত ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজনের অভাবেই এই মৃত্যু হয়ে থাকে। মাত্র ২০ ভাগ মানুষের জন্য ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে, চিকিত্সা নিলে ৫০ ভাগ কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে দেশের ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক। পাশাপাশি নার্স, প্যারামেডিক্স ও কিডনি বিশেষজ্ঞ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।

গতকাল শেষ হওয়া দুই দিনব্যাপী কিডনি ফাউন্ডেশনের ১৪তম জাতীয় সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার শেষে বক্তারা এসব তথ্য দেন। কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল­া ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল আলম। কিডনি রোগের ওপর আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনারে ১৮ জন অধ্যাপক আলোচনা করেন যাতে প্রায় পাঁচশ চিকিত্সক অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে রয়েছে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক যাতে লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন চিকিত্সা নেয়। এসব লোকের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে কি না, প্রস্রাবের সঙ্গে মাইক্রো অ্যালবুমিন বা অ্যালবুমিন যাচ্ছে কি-না, তা যদি জানা যায়, তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর তাদের যথাযথ চিকিত্সা দিলে ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে ক্রনিক কিডনি রোগ থেকে রক্ষা করা যায়। তাই এ বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। 

অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ জানান, কিডনি রোগের সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দেশে বর্তমানে ৮০ লাখ লোক ডায়াবেটিসে, ২ কোটি লোক উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তাই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের যথাযথ চিকিত্সা ও সচেতনতা জরুরি। এই রোগ প্রতিরোধে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, অতিরিক্ত লবণ পরিত্যাগ, হরহামেশা ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন, ফাস্টফুড, চর্বি জাতীয় ও ভেজাল খাবার, ধূমপান বর্জন করা উচিত। এছাড়াও কারো কিডনি রোগ হোক বা না হোক বছরে অন্তত একবার কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত।

অনুষ্ঠানে মানব সেবায় নিঃস্বার্থ অনুদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কিডনি ফাউন্ডেশনের পক্ষে বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, সুবল দাস, মোয়াজ্জেম হোসেন, মঞ্জুরুল হক এবং ইঞ্জিনিয়ার এস এম খোরশেদ আলমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।