চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৬

কোনো জটিল রোগীর ঝুঁকি নিতে পারছে না চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। রোগীর অবস্থা সামান্য জটিল হলেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে, এ রকমই তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিত্সক ও জনবলের অভাব রয়েছে বলে জানা গেছে। বিকাল তিনটার পর থেকে পরেরদিন সকাল পর্যন্ত চিকিত্সা নিয়ে রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এই সময়ে একজন মাত্র চিকিত্সক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সকল রোগীর জরুরি সেবা দিয়ে থাকেন। জরুরি চিকিত্সা না থাকায় হাসপাতালের অধিকাংশ বেড খালি পড়ে থাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, মেডিক্যাল অফিসার ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকটে  চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক লেখালেখি হয়েছে।

শহরের কেন্দ্রস্থল আন্দরকিল্লা এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি চিকিত্সাকেন্দ্র চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীরা প্রায় ১৭ ঘণ্টা ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন। এই সময়ে নেই মেডিক্যাল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। এই সময়ে যদি কোনো রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে তাকে রেফার করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যালে। হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কনসালটেন্ট চিকিত্সক রয়েছে। কিন্তু তাদের ডিউটি সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। এরপর হাসপাতাল চিকিত্সক-শূন্য। এ ব্যাপারে বিএমএ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে পদ সৃজন করে চিকিত্সক বাড়ানোর জন্য আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে রোগীর চাপ কমাতে হলে জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সক বাড়াতে হবে। ডেপুটেশনে আনা হলে অন্য জায়গায় চিকিত্সক সংকট দেখা দিবে।’

হাসপাতাল এলাকায় চিকিত্সকদের আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে অবস্থান করেন তারা। ফলে জরুরি মুহূর্তে চিকিত্সককে পাওয়া যাচ্ছে না। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ১৫০ জনের মতো রোগী চিকিত্সাধীন থাকে। রোগীদের ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে না। পর্যাপ্ত সিট রয়েছে। তারপরও জরুরি চিকিত্সা না থাকায় রোগীরা ভর্তি হচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) ডা. অসীম কুমার নাথ ইত্তেফাককে বলেন, মেডিক্যাল অফিসার ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকাল থেকে ১০টি বিভাগে প্রতিদিন আউটডোরের একজন চিকিত্সক হাসপাতালের অন্তঃবিভাগের রোগীদের জরুরি সেবা দিয়ে থাকেন। জরুরি চিকিত্সা সেবা চালুর জন্য মেডিক্যাল অফিসার পদে ৭০ জন চিকিত্সকের পদ সৃজনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এটি করা গেলে জেনারেল হাসপাতাল চমেক হাসপাতালের সহায়ক চিকিত্সাকেন্দ্র হিসেবে পরিণত হতো। ওটি টেবিলসহ চিকিত্সা যন্ত্রপাতিগুলো জরাজীর্ণ। সুইপার ও দারোয়ান না থাকায় আউটসোর্সিংয়ের ৩৬ জন লোক দিয়ে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হচ্ছে।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্র আরো জানান, বর্তমানে পানি সংকট নিরসন হয়েছে। কয়েকটি পাম্প বসানোর পর পানি সংকট নেই। তবে বিদ্যুত্ সমস্যায় রোগীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালে বিদ্যুতের কোনো এক্সপ্রেস লাইন নেই। ২৫০ কেভির একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে হাসপাতালে বিদ্যুত্ সরবরাহ চলছে। কিন্তু বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুণ। হাসপাতাল এলাকায় একটি সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি নির্মাণে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। কিন্তু এই প্রস্তাবের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।

হাসপাতালে সার্জারি চিকিত্সায় নানা সমস্যা বিরাজ করছে। ওটি টেবিল রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে একটি নষ্ট। চালু থাকা চারটির মধ্যে প্রসূতিদের সিজার ও  জেনারেল সার্জারি করা হয়। এই তিনটি টেবিল জরাজীর্ণ। প্রায় সময় ওটি টেবিলে অচলাবস্থা লেগে থাকে। সার্জারির কাজে ব্যবহূত অন্যান্য যন্ত্রপাতির অবস্থা খারাপ। অ্যানেসথেসিয়া চিকিত্সক আছেন মাত্র একজন। ফলে সার্বক্ষণিক অপারেশন ও সিজারিয়ান করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে  সিজারিয়ানের প্রসূতি ও সার্জারির জটিল রোগীদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতালটি পাহাড়ের টিলার ওপর অবস্থিত। ফলে সার্বক্ষণিক লিফটের ব্যবহার প্রয়োজন। তিনটি লিফট রয়েছে। এগুলো ২০/২৫ বছরের পুরোনো। প্রায় সময় যান্ত্রিক ত্রুটি লেগে থাকে। পুরোনো মডেলের লিফটগুলো নষ্ট হলে যন্ত্রাংশ বাজারে পাওয়া যায় না। এ ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জুলিয়ানা সেতারা বলেন, এরই মধ্যে পানির সরবরাহ বাড়ানো ও বৈদ্যুতিক বাল্ব, ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতাল এলাকায় লাইট লাগানো হয়েছে। তিনটি লিফট সচল রয়েছে।’