বিশ্বব্যাপী বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে হালাল পণ্যের বাজার ক্রমেই বাড়ছে। দেশগুলো ২০১৭ সালে খাদ্য ও পানীয় খাতে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ খরচ করেছে। বিশ্বব্যাপী বছরে এ ধরনের খাদ্যের রপ্তানি সোয়া আট শতাংশ হারে বাড়ছে। তবে বিশাল এ পণ্যের বাজারে হালাল পণ্য রপ্তানিতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি করতে পারছে না বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি করেছে মাত্র ১৪০ কোটি ডলারের। অবকাঠামো দুর্বলতা, বাংলাদেশি সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবসহ এ খাতের সহায়ক নীতিমালার অভাবের পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘নিরাপদ ও হালাল খাদ্য নিশ্চিতকরণ : বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক ঐ সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোহাম্মদ আল-মুহাইবি।
ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, অবকাঠামো দুর্বলতা, প্রদত্ত সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উত্পাদিত হালাল পণ্য রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে। ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো হালাল পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সনদ প্রদানে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা দরকার। একই সঙ্গে অবকাঠমোগত উন্নয়ন এবং হালাল পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে জমি বরাদ্দ দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
শিগিগরই বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারে হালাল পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে হালাল খাদ্যের ব্যবহার প্রতি বছর প্রায় সোয়া ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরএসিএসের কনফরমিটি ডিরেক্টর ড. সামিয়া আবদেল লতিফ এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলোজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে ওবিদুল হক।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত গতকাল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে বাংলাদেশে হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন সেন্টার স্থাপনে গুরুত্ব দিয়েছেন। এক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এফবিসিসিআইয়ের আওতায় হালাল পণ্যের অভিন্ন সনদ প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন। এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
