আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, উন্নয়নের জোয়ার অব্যাহত রাখতে বিজয়ের মাসে নৌকায় ভোট দিন। যে নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা এদেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন, আগামী নির্বাচনে দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সেই নৌকা মার্কায় ভোট দিন। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশের সব উন্নয়ন ধ্বংস করে দেবে, খুন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের মাধ্যমে দেশকে আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে। তাই দেশের মানুষ আর অন্ধকারের যুগে ফিরে যেতে চায় না, দেশবাসী চায় নৌকায় ভোট দিয়ে আলোর পথেই এগিয়ে যেতে।
সমৃদ্ধির পথযাত্রা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আরো একবার দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন। সবাই মনে রাখবেন একটি ভোট ও একটি আসনও আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। একটি আসনের কারণেও হয়তো সরকার গঠন করা সম্ভব না-ও হতে পারে। সে কারণে যেখানে যাকে নৌকার প্রার্থী করেছি, তাঁদেরকে ভোট দিয়ে আমাদেরকে সরকার গঠন করতে সহায়তা করুন।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজের নির্বাচনী আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শুরুর পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফেরার পথে পাঁচ জেলার সাতটি স্থানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিটি জনসভা যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড়, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, পাটুরিয়া ঘাট, মানিকগঞ্জ পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড, ধামরাই রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও সাভারের জালেশ্বর মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী জনসভায় সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। এসময় জনসভাস্থল সংশ্লিষ্ট আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য ওয়াদা করার আহ্বান জানালে উপস্থিত লাখো জনতা হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া থেকে রওনা দিয়ে ৭টি জনসভায় যোগদান শেষে সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে পৌঁছান। জনসভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আহমদ হোসেন, চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস ও রিয়াজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জনসভাগুলোতে শেখ হাসিনা বলেন, খুনি, সন্ত্রাসী, বিদেশে অর্থপাচারকারী, অগ্নিসন্ত্রাসকারী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, স্বাধীনতাবিরোধী ও এতিমের টাকা আত্মসাতকারীরা (বিএনপি-জামায়াত) আর যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে, দেশকে আবারও ধ্বংস করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত তরুণ সমাজের জন্য উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনই আগামীতে আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তরুণ সমাজ বিশেষ করে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।
আগামী ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচনে আপনাদেরই (দেশবাসী) সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? আবারও জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই, একই দিনে পাঁচশ’ স্থানে বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির মতো অতীতের অন্ধকারের দিকে ফিরে যাবেন, নাকি জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতিমুক্ত বর্তমানের উন্নয়নের আলোর পথেই থাকবেন? সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে। আবারও নৌকায় ভোট দিন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আপনাদের উপহার দেব। প্রত্যেক গ্রামকে আমরা শহরে পরিণত করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। কোন কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমি দেশবাসীর কাছে প্রত্যাশা করি, গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে সবাই নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন। আগামীবার ক্ষমতায় আসলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি। ফরিদপুরকে বিভাগ করারও আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বাবা-মা, ভাইসহ সবাইকে হারিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছি, যাতে দেশের মানুষ একটু ভাল থাকে। দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য আমরা একটা উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ রেখে যেতে চাই। আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশের একটি মানুষের ঘরও অন্ধকার থাকবে না, কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য আরেকটিবার দরকার আওয়ামী লীগ সরকার। আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। আমরা ক্ষমতায় থেকেই এটি পালন করতে চাই।
