তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখার নির্দেশ সিইসির

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৫

নির্বাচন নিয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভায় সিইসি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে কি না তা-ও নজরে রাখতে বলেছেন। সে সময়ের সহিংস অবস্থার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ছক তৈরি করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিইসি। সভায় সিইসির স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি এ-ও বলেন, নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ইসির নিয়ন্ত্রণে রাখা। এটি খুব দুরূহ। আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। অতি উত্সাহ বা নির্লিপ্ততা যেন না দেখি। ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রম দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেন তিনি। কমিশনার কবিতা খানম বলেন, কোনো কারণ ছাড়া গ্রেপ্তার করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে। আর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ভোটারদের ভোট দেওয়া এবং প্রার্থীদের প্রচারণা চালানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে কোনো প্রকার সহিংসতা ও প্রাণহানি হোক তা আমরা চাই না।

স্বাগত বক্তব্যে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের অবস্থা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তখন ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার আলোকে আমাদের এবারের নির্বাচনের প্রস্তুতির রূপরেখা ও কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন। সেই অবস্থা থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যায়, সেরকম কোনো পাঁয়তারা যাতে না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনাদের (আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য) দায়িত্ব জনগণের জীবন রক্ষা করা, মালামাল রক্ষা করা, সম্পদ রক্ষা ও দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। আমি আশা করবো আপনাদের নিরপেক্ষ পেশাদারি দায়িত্বপালনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও মানসিকতা দিয়ে এবারের নির্বাচনে আমরা এসব মোকাবিলা করতে পারবো।

নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, আমরা কিন্তু আশঙ্কাগুলো একেবারেই অবহেলা করতে পারি না। প্রতীক বরাদ্দের পর দুটো জীবন চলে গেলো, এখানে-ওখানে ভাঙচুর হলো। এগুলোর পেছনে সেই ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে কি না, তা কিন্তু ভালোভাবে নজরে নিতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্ক নজরদারি থাকতে হবে। একজনের দোষ আরেক জনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হালকাভাবে নিলে হবে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সতর্ক অবস্থান নেয়ার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে তৃতীয় কোনো শক্তির  ষড়যন্ত্র আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংস ঘটনা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যখন স্বতঃস্ফূর্ত জনজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই খুনের ঘটনা, হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে সকলের বিশেষ করে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সমাজের সচেতন মহল ও জনগণের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশল প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সব বাহিনীর কৌশল ঠিক করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি রাখবেন। সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদেরকে আটক করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।  কারো বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা যাবে না। সকলকে সাথে নিয়েই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

বৈঠকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, নির্বাচনে এ পর্যন্ত বড় ধরনের আচরণ বিধি লংঘনের ঘটনা ঘটেনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের আইজি, র্যাবের ডিজি, বিজিবির ডিজি, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিসহ সব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।