জাহিদ আলম
হাজারিখিল অভয়ারণ্য, খুব কম মানুষ চেনেন জায়গাটিকে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এর অবস্থান। আমার মনে হয়েছে এখানে আপনি বাংলাদেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর চেয়ে অনেকটাই আলাদা একটা থ্রিল পাওয়া যায়! একদম শান্ত নিরিবিলি একটা জায়গা! যেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য ট্যুরিস্ট স্পটগুলাতে গেলে দেখা যায় মানুষের গিজগিজ, ময়লা-আবর্জনা। কিন্তু হাজারিখিলে মানুষজনের আনাগোনা নেই বললেই চলে।
খুব ভোরেই চট্টগ্রাম থেকে ফটিকছড়ি পৌঁছালাম আমরা। সেখান থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে হাজারিখিল অভয়ারণ্যের দিকে ছুটলাম। মূল রাস্তা ছেড়ে বায়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরিয়ে আধঘণ্টার মতো লাগলো পৌঁছাতে। হাজারিখিলের আগে একবার এলেও প্রচণ্ড বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কারণে তখন বুনো পথে ট্রেকিংয়ের আর সুযোগ হয়নি। তবে এই এলাকার স্নিগ্ধতা আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, দ্বিতীয়বার আসার পরিকল্পনায় তাই আর দ্বিধা হয়নি। প্রবেশপথের গেটে নেমে আগে চা খেয়ে চাঙ্গা হয়ে নিলাম। গেটে নাম এন্ট্রি করে ভেতরে প্রবেশ করলাম।
জানা যায়, ২০১৪ সালে ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার একর বনাঞ্চলকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা হাজারিখিল অভয়ারণ্য নামে পরিচিত। পর্যটকদের কাছে খুব বেশি পরিচিত না হলেও এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। ইউএস এইড এবং বন বিভাগের সমন্বয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এখানে ট্রি অ্যাক্টিভিটি, ক্যাম্পিং ছাড়াও নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রবেশপথ পেরিয়ে ঢুকতেই ডানপাশের রাস্তা চলে গেছে ট্রি অ্যাক্টিভিটি পয়েন্টের দিকে। আমরা অ্যাক্টিভিটির দিকে না গিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম। বামপাশের এলাকাজুড়ে সবুজে ঘেরা রাঙ্গাপানি চা বাগানের সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে। চা বাগান পেরিয়ে একটু সামনে যেতেই একটা খাবারের দোকান রয়েছে। দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা তারাই করে থাকে যেহেতু ট্রেকিং করে ফিরতে দুপুর হবে তাই আগেই খাবারের অগ্রিম অর্ডার করে দিলাম। অতঃপর জামা কাপড় পাল্টে ঝিরিপথ ধরে হাঁটা শুরু করলাম। এই ট্রেইলে ট্যুরিস্টের আনাগোনা এখনো খুব বেশি না হওয়াতে বেশ পরিচ্ছন্নই মনে হলো। ৭/৮ কিলোমিটার দূরত্বের এই ট্রেইলটা কালাপানি ঝরনায় গিয়ে মিলেছে। এই পাহাড়গুলো মিরসরাই-সীতাকুণ্ডু রেঞ্জের সঙ্গে মিলেছে বলেই সেদিকের ট্রেইলের সঙ্গে বেশ মিল আছে।
ঘণ্টাখানেক পরও যখন রাস্তা ফুরাচ্ছিল না তখন একটু দ্বিধায় পড়লাম ঠিক পথে যাচ্ছি কি-না! এতটা লম্বা পথ আশা করিনি। তবু দ্বিধা কাটিয়ে পাথুরে রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলাম। কিছু জায়গায় পার হতে হলো কোমর পানি। বৃষ্টি হলে এই পথের অবস্থা তাই সহজেই অনুমেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার ট্রেকিং শেষে ঝরনার কাছে পৌঁছালাম। পাথুরে নির্জনতায় কিছু সময় কাটিয়ে ফেরার পথে রওনা হলাম। চেনা পথ হওয়াতে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম চা বাগান এলাকায়। মোটামুটি ৭/৮ কিলোমিটারের ভয়ঙ্কর এই হাজারিখিল ট্রেইল! ট্রেইলটা শেষ হয় কালাপানি ঝরনাতে। অসাধারণ এই ট্রেইলে প্রকৃতির মায়াময় রূপ দেখা যায়!
