স্কুল পথেই যখন অ্যাডভেঞ্চার!

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:০৭

 

কাঠের বা লোহার পাল্লা। শুধু শিশুরাই নয়, গ্রামবাসীরাও এই পথ ব্যবহার করেই তাদের দৈনন্দিন কাজ করে থাকে। এভাবে সেতু অতিক্রম খুব বিপজ্জনক এবং রয়েছে মারাত্মক মৃত্যুর ঝুঁকিও। ২০১০ সালে এভাবে সেতু পারাপার হতে গিয়ে ৫ জনের মৃত্যু ঘটে। তারপরও শিক্ষার আলোয় নিজেদের উদ্ভাসিত করার জন্য ধায়িং গ্রামের মতো আশেপাশের গ্রামের শিশুরা এভাবে সেতু পারাপার করে তাদের বিদ্যালয়ে পৌঁছায়।

 

রিজাল প্রদেশ, ফিলিপাইন

ফিলিপিনের দুর্গম অঞ্চলে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থ না থাকার কারণে এসব অঞ্চলের শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রবণতা খুবই কম। তার মধ্যে ব্যতিক্রম রিজাল প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। এই গ্রামের শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য পাড়ি দিতে হয় সোলেন নদী। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় বাড়ি থেকে প্রায় আধঘণ্টা দূরত্ব অতিক্রম করে তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছায়।

নদী অতিক্রম করার জন্য তারা কোনো পাল তোলা নৌকা বা ভেলা ব্যবহার করে না। এই নদী পারাপারের জন্য তাদের একমাত্র ভরসা গাড়ির চাকার বায়ুভর্তি টিউব। শুধু গ্রীষ্মকালে নদী যখন শান্ত থাকে তখনই নয়, সারাবছরই বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য এভাবে তারা নদী পাড়ি দিয়ে থাকে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে সেসব দিন এসব শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ থাকে।

 

গ্রাম গুলু, সিচুয়ান প্রদেশ, চীন

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের এক দুর্গম গ্রাম গুলু। গ্রামের শিশুদের জন্য যে বিদ্যালয়টি রয়েছে তাতে যাওয়ার জন্য এক পাহাড়ি রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। এক ফুট চওড়া পাহাড়ি পথ বেয়ে ৫ ঘণ্টার এক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে গ্রামের শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেকে এই পথ দিয়ে না গিয়ে অন্য আরেকটি পথও ব্যবহার করে থাকে।

অবশ্য সেই পথটিও বেশ বন্ধুর। এই পথ দিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রামের অবস্থাপণ্ন পরিবারের শিশুদের তাদের অভিভাবকরা ঘোড়া ওপর বসিয়ে এই পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। যাত্রাপথটি যেমন দুর্গম, তেমনি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়ের এই যাত্রাপথ বিশ্বের সবচেয়ে প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী বিদ্যালয় যাত্রাপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।