ধান খেতের ক্ষতিকর পোকা দমনে আলোর ফাঁদ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৭

ধান খেতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয়ে আলোর ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আলোর ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয়ের পরে কীটনাশক প্রয়োগ করতে কৃষকদের উত্সাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকের অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার কমবে, আর ফসল থাকবে বিষমুক্ত। কৃষকের উত্পাদন খরচ কমবে।

বুধবার রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সদর ইউনিয়নের লংলী ব্লকের কেছরিগুল এলাকায় আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। চলতি রোপা আমন মৌসুমে বড়লেখা কৃষি বিভাগ ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্ণয়ে সপ্তাহের প্রতি বুধবারে একযোগে উপজেলার ৩০টি ব্লকে আলোর ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধানের জমির পাশে তিনটি খুঁটি পুঁতে সেখানে একটি চার্জার বাতি ঝোলানো হয়েছে। বাতির নিচে একটি পানির পাত্র রাখা। এই পাত্রের পানিতে গোলা সাবান ও কেরোসিন মিশ্রিত করা হয়। বাতির আলো জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ফসলের জমি থেকে বিভিন্ন জাতের পোকা উড়ে এসে পাত্রের পানিতে পড়ে মারা যাচ্ছে। পাত্রে মারা যাওয়া পোকা দেখেই নির্ণয় করা হচ্ছে কোন পোকা ক্ষতিকর। জমিতে কি পরিমাণ ক্ষতিকর পোকা আছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলায় চলতি বছর রোপা আমন চাষের লক্ষ্য ধরা হয় ৮ হাজার ১৩৮ হেক্টর। মাঠ পর্যায়ে চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৫৪০ হেক্টর। এবার বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। বর্ষার পানি তাড়াতাড়ি নেমে যাওয়ায় হাওর এলাকার তিনটি ইউনিয়ন বর্ণি, তালিমপুর ও সুজানগরে ভালো ফলন হয়েছে। নিচু এলাকায় পানি দ্রুত চলে যাওয়ায় সময়মতো ধান রোপণ করতে পেরেছেন কৃষকরা। এলাকায় বিআর-২২ জাতের ধানের আবাদ বেড়েছে। এদিকে রোপা আমন মৌসুমে সচেতনতার অভাবে অনেক কৃষক জমিতে ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করার আগেই কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। এতে করে ফসলের জমির উপকারী অনেক পোকা মারা যায়। কৃষকেরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ সময় বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান, কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল দাস, জোবায়েদা আক্তার ও মসিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোর ফাঁদ দেখতে আসা কৃষক ধীরেন্দ্র দাস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না, এখন থেকে ফসলের জমিতে কীটনাশক দেওয়ার আগে এভাবে দেখব জমিতে পোকা আছে কি না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে মাঠে কি কি পোকা আছে তার উপস্থিতি জানা যাচ্ছে। মাঠে উপকারী ও অপকারী দুই ধরনের পোকা আছে। এর সংখ্যা নির্ণয় করা যায়। এতে ফসল উত্পাদনে খরচ কমে যাবে ও ফসল হবে বিষমুক্ত।’