নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর থেকেই ডেভিড ওয়ার্নারের ফর্মে যেন তালা লেগে ছিল। বিশ্বকাপ কিংবা অ্যাশেজ—দুটো বড় মঞ্চের কোনোটিতেই তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা আরেক তারকা স্টিভেন স্মিথ ব্যাট হাতে এতটাই প্রকাণ্ড হয়ে উঠেছিলেন যে, ওয়ার্নার আরো বেশি চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজে ওয়ার্নার এতটাই বাজে সময় কাটিয়েছেন যে, দলে তার জায়গা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন।
এত সব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য ওয়ার্নার বেছে নিলেন নিজের দেশের মাটিতেই। আর সেই জবাবের আগুনে পুড়ল শ্রীলঙ্কা। অন্যভাবে বললে, পাকিস্তানের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ফেরা লঙ্কান দলকে মাটিয়ে নামিয়ে আনলেন ওয়ার্নার। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন ওয়ার্নার। বাঁ-হাতি এই ওপেনার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে গতকাল রোববার ৫৬ বলে ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ২৩৩ রানের পাহাড় গড়ে।
অ্যাডিলেড ওভালে জবাব দিতে নেমে ওয়ার্নারের স্কোর থেকেও এক রান দূরে থাকতে থেমে যেতে হয় লঙ্কানদের। ফলে, সফরকারীরা ১৩৪ রানের বিশাল পরাজয় নিয়ে শুরু করল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আগামী বুধবার ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
বল-টেম্পারিং কাণ্ডের অন্যতম খলনায়ক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দেশের মাটিতে গতকাল প্রথম ম্যাচটা খেললেন। তাতেই তিনি জয়ের নায়ক। ৫৬ বলের ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও ১০টি চার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই ওয়ার্নারের প্রথম সেঞ্চুরি।
ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে বললেন, ‘দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে পারা সব সময়ই আনন্দদায়ক। এটা দারুণ একটা মাইলফলক ছিল। ঘরের মাটিতে দর্শকদের সমর্থন আরো বেশি পেয়েছি। এত সমর্থনের জবাব নেওয়ার অনুভূতিটাই অন্যরকম।’
এদিন বাজে সময় কেটেছে লঙ্কান বোলারদের। মাত্র দু’টি উইকেট ফেলতে পেরেছেন তারা। ফলে, টস জয়ের ব্যাপারটাই রীতিমতো অর্থহীন বলেই প্রমাণিত হয়। ওয়ার্নার ছাড়াও হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ফিঞ্চ ৬৪ ও ম্যাক্সওয়েল ৬২ রান করেন। লঙ্কানদের ডান-হাতি পেসার কাসুন রাজিথা চার ওভারে ৭৫ রান হজম করে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এর আগে কোনো বোলারই এক ম্যাচে এত রান হজম করেননি।
ব্যাটিংয়েও সামান্যতম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি লাসিথ মালিঙ্গার দল। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান হলো মাত্র ১৭, করেন দাসুন শানাকা। দুই অঙ্কের স্কোর ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছেন ছয় জন ক্রিকেটার। শেষ অবধি নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ৯৯ রান তুলতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন মিশেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স।
