নিজেদেরই এগিয়ে রাখছে চট্টগ্রাম আবাহনী

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৩

চট্টগ্রাম আবাহনী আজ সোমবার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের সেমিফাইনালে গোকুলাম কেরালার মুখোমুখি হবে। দলটির অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া শক্তি-সামর্থ্যে দুই দলকে সমতায় দেখলেও দর্শক সমর্থনের কারণে নিজেদেরই এগিয়ে রাখছেন।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শিরোপা পুনরুদ্ধারই লক্ষ্য এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন কোচ মারুফুল হক। টিসি স্পোর্টসকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে শুরু করার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দলটি ইয়ং এলিফ্যান্টের জালে জড়িয়েছিল ৪ গোল। শেষ ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি পরখ করতে গিয়ে মোহনবাগানের কাছে হারলেও ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবেই সেমিফাইনালে এসেছে স্বাগতিকেরা।

প্রতিপক্ষের জালে তিন ম্যাচে ৮ গোল করা দলটি শেষ চারে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে গোকুলাম কেরালাকে। মাত্র দুই দিনের নোটিশে টুর্নামেন্ট খেলতে এসে শুরুতেই প্রিমিয়ার লিগ বিজয়ী বসুন্ধরাকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিল দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচে তেরেঙ্গানুর সঙ্গে ড্র করলেও শেষ ম্যাচে চেন্নাই সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে আসে তারা। এমন দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে বেশ সতর্ক চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক। জামালের ভাষ্য, ‘টুর্নামেন্টের শুরুতেই দেশের সেরা দলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। এমন দলের বিপক্ষে খেলার আগে সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই আমাদের।’

প্রতিপক্ষ শিবির সম্পর্কে কোচ মারুফুল হকের মূল্যায়ন, ‘তারা ভালো দল। তাদের বিশ্লেষণ করে আমরা যা পেয়েছি তা হলো, তারা টেকনিক্যালি এবং ট্যাকটিক্যালি বেশ ভালো। বলের দখল নিয়ে ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খেলতে চায়। তাদের বিপক্ষে কী করণীয়, তা-ও বের করে ফেলেছি আমরা।’

ভারতের ডুরান্ড কাপজয়ী গোকুলাম কেরালা শেখ কামাল কাপের গ্রুপ পর্বে মূলত ফরোয়ার্ড হেনরি কিসেকা ও নাথানিয়েল গার্সিয়ার নৈপুণ্যেই ভালো ফল পেয়েছিল। তাদের রুখতেও কৌশল ছকে রেখেছেন চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ, ‘প্রতিপক্ষের ভালো খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করে তাদের রোখার কৌশলই তো করতে হয় আমাদের। সেটা আমরা করে রেখেছি। ডিরেক্ট ফ্রি-কিক তো বটেই, ইনডিরেক্ট ফ্রি-কিকেও নাথানিয়েল দারুণ।’

এদিকে অধিনায়ক জামাল শক্তি-সামর্থ্যের বিচারে ম্যাচটাকে সমান সমানই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘ওরা আমাদের চ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়েছে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচেও ভালো খেলেছে। এদিকে আমরাও আমাদের সেরাটা খেলেই ফাইনালে এসেছি। তো আমার মনে হয় না এখানে ফেভারিট বা আন্ডারডগ বলে কোনো দল আছে। সমান একটা লড়াই বলেই মনে হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের মাটিতে এই টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম আবাহনীর তিনটি ম্যাচেই বিপুল দর্শকসমাগম হয়েছিল। দর্শকদের সমর্থনের কারণেই নিজেদের এগিয়ে রাখছেন আবাহনী অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থনকে কখনোই চাপ বলে মনে হয় না আমার। এটা বরং আমাদের ম্যাচে এগিয়ে দেয়। দর্শকদের সাপোর্টটা দ্বাদশ ব্যক্তির মতো কাজ করে। এ কারণেই এই সেমিফাইনালে নিজেদের এগিয়ে রাখছি।’

এদিকে গোকুলামের কোচ ফার্নান্দো সান্তিয়াগো ভালেরা সেমিফাইনালের আগে প্রতিপক্ষকে বেশ সমীহের চোখেই দেখলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দল গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে। তাদের বিশ্লেষণ করেছি আমরা। আটকানোর কৌশলও ছকে ফেলেছি। সেটা ম্যাচে করে দেখাতে পারলে আমরাই ফাইনালে যাব।’