বড়ো বাজেটের দল বসুন্ধরা কিংস গেল মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এসেই জিতেছিল পেশাদার ফুটবল লিগটির পাশাপাশি স্বাধীনতা কাপের শিরোপা। এমন নৈপুণ্যের পর শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপেও শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই এসেছিল দলটি। তবে বন্দর নগরীর এই টুর্নামেন্টে অভিষেকটা মোটেও সুখকর হয়নি তাদের। তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে বিদায় নিয়েছে প্রথম রাউন্ড থেকেই। দলের সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সির মতে দুর্বল রেফারিং, চোট সমস্যা, সমন্বয় আর প্রস্তুতির অভাবকেই দায়ী করলেন।
প্রিমিয়ার লিগ জয়ীদের তিনটি ম্যাচেই ভুগিয়েছে ভঙ্গুর রক্ষণ। প্রথম দুই ম্যাচে ‘হাই-প্রেস’ করা গোকুলাম কেরালা ও চেন্নাই সিটির বিরুদ্ধে নিজেদের বিপদসীমার কাছে বারবারই বল খুইয়েছে দলটি। শেষ ম্যাচে আবার মাঝমাঠ থেকে ধেয়ে আসা লম্বা বলে পরাস্ত হচ্ছিল তারা। কোচ রক্সি জানালেন, দলটির ফুটবল দর্শনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারাই এর কারণ।
সাবেক ফুটবলার রক্সি বলেন, ‘আমাদের যে কোচিংয়ের ধরন, দর্শন সেটা আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে আসতে সময় লাগবে। আমরা ইতিবাচক ফুটবল খেলি আর তারা এসেছে নেতিবাচক ফুটবল খেলা দল থেকে। তো এখানে আমাদের সময় প্রয়োজন। অন্তত ছয় সপ্তাহ তো বটেই?’
মাঝমাঠেও যথেষ্ট ছন্নছাড়া ছিল লিগ চ্যাম্পিয়নরা। দলের সহকারী কোচ জানালেন, চোট সমস্যা এ ক্ষেত্রে বড় একটা ভূমিকা পালন করেছে। কোচ রক্সির ভাষ্য, ‘গেল মৌসুমে ৪-১-৪-১ ছকে খেলেছি আমরা। যেখানে হোল্ডিং মিডে ছিল মাশুক মিয়া জনি। বাংলাদেশের সেরা হোল্ডিং মিডফিল্ডার ছিল সে। সে চোট পাওয়ায় আতিকুর রহমান ফাহাদকে দলে এনেছিলাম আমরা। সেও কিছুদিন আগে ইনজুরিতে পড়ায় শেষমেশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বখতিয়ার দুশোবেকভকেই এখানে খেলাতে হয়েছে আমাদের।’
ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলে গত ১৬ অক্টোবর দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ দল। দলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আধিক্য থাকায় বেশ কিছু খেলোয়াড়কে পায়নি বসুন্ধরা। এ কারণে বোঝাপড়াও তৈরি হয়নি দলটিতে, অভিমত সহকারী কোচের। রক্সি বলেন, ‘অন্তত এক মাস দলটাকে সময় দিতে হবে। তিন দিনের প্রস্তুতি নিয়ে আসলে এই মানের টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা কঠিন।’
শেষ ম্যাচের রেফারিং নিয়েও অসন্তোষ আছে বসুন্ধরা সহকারী কোচের, ‘রেফারিং ভালো ছিলো না। যাতে হতাশ হয়েছি আমি। প্রথম পেনাল্টির সিদ্ধান্তটায় ইয়াসিন ক্লিয়ার করার পর পা লেগেছিল। রেফারি দূরে ছিল। সেটা লক্ষ্য করেনি।’
শেখ কামাল ক্লাব কাপের দলকে এএফসি কাপের প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার দারুণ সম্ভাবনা আছে বসুন্ধরার। রক্সি জানালেন, সে কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতিটা ভালোই হলো দলের।
তিনি বলেন, ‘মালদ্বীপের চ্যাম্পিয়ন টিসি স্পোর্টস আর আইলিগ জয়ী চেন্নাই সিটি এফসি আমাদের গ্রুপেই আছে। আমরা তাদের খেলার ধরন দেখেছি। শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে ধারণা পেয়েছি। সেক্ষেত্রে প্রস্তুতিটা ভালোই হয়েছে মনে হচ্ছে।’
