ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতির পদে আসীন হওয়ার পর বিরাট কোহলিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। ঐ সভা থেকেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন গাঙ্গুলি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, একই সভায় আসন্ন হোম সিরিজে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি দিবারাত্রির টেস্ট খেলার আলোচনা করেছেন সৌরভ-কোহলিরা। বাংলাদেশকে দিয়েই গোলাপি বলের ক্রিকেটে যাত্রা করতে চায় ভারত।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো গোলাপি বলে দিবারাত্রির টেস্ট খেলেনি ভারত ও বাংলাদেশ। আলোচনা হলেও আগামী মাসেই বাংলাদেশ-ভারত দিবারাত্রির টেস্ট খেলবে তা নিশ্চিত নয়। আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে আগামী মাসে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ-ভারত। ইন্দোরে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। দ্বিতীয় টেস্ট কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হবে ২২ নভেম্বর।
শেষ পর্যন্ত সাকিব-কোহলিরা দিবারাত্রির টেস্ট খেললে সেটি সীমান্তের ওপারে কলকাতায় আয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ঐ টেস্টে উপস্থিত থাকতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। বিসিসিআইয়ের নব্য সভাপতির আমন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা।
গোলাপি বলে টেস্ট খেলার জন্য বিসিসিআইয়ের আনু্ষ্ঠানিক প্রস্তাব পেয়েছে বিসিবি। দিবারাত্রির টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, ‘এই ধরনের একটা আলোচনা চলছে। আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে একটি দিবারাত্রির টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছিল বিসিবি। ২০১৮ সালে এই আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু সে সময় রাজি হয়নি বিসিবি। তখন বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দিবারাত্রির ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নেয়ার পর ঐ গোলাপি বলে টেস্ট খেলার কথা ভাববে বিসিবি।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০১২-১৩ মৌসুমে একটি ম্যাচ গোলাপি বলে আয়োজন করেছিল বিসিবি। ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালটি হয়েছিল দিবারাত্রির। ফাইনালে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়েছিল। মধ্যাঞ্চল ম্যাচ জিতেছিল ৩১ রানে। তারপর আর গোলাপি বলে কোনো ম্যাচ আয়োজন করেনি বিসিবি।
ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য গোলাপি বলে ম্যাচ খেলা হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। রঞ্জি ট্রফিতে দিবারাত্রির ম্যাচ আয়োজন করে আসছে বিসিসিআই। সেদিক থেকে ভারতীয় ক্রিকেটারদের কিছুটা অভিজ্ঞতা আছে এ ধরনের ম্যাচ খেলার।
বাংলাদেশের দিক থেকে হুট করে গোলাপি বলে খেলতে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। কারণ এই বলে খেলার ন্যূনতম অভিজ্ঞতাও নেই বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। আর প্রস্তুতি ছাড়া দিবারাত্রির টেস্টে সাকিব-তামিমদের রাজি না হওয়ার কথা। ভারত সফরে দিবারাত্রির টেস্ট খেলা প্রসঙ্গে জাতীয় দলের এক সিনিয়র ক্রিকেটার গতকাল বলেছেন, এটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বোর্ড এখনো আমাদের সাথে আলোচনা করেনি। এগুলো অনেক আগে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তাই ভারতের বিরুদ্ধে লাল বলেই টেস্ট ম্যাচ খেলার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
