দুই রাজ্যে সরকার গঠন

অস্বস্তিতে বিজেপি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৭

গেল সপ্তাহে ভারতের মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুই রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। তবে তাতে বিজেপির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সরকার গড়তে নানা হিসাব-নিকাশের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। যে কারণে অস্বস্তির মুখে রয়েছে দলটি।

গত সোমবার দুই রাজ্যে ভোট গ্রহণ হয় এবং বৃহস্পতিবার ভোট গণনা হয়। জনগণের রায় অনুযায়ী মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনের বিধানসভায় বিজেপি-শিবসেনা জোট পেয়েছে ১৬১টি আসন। কংগ্রেস-এনসিপি জোট পেয়েছে ১০২ এবং অন্যরা পেয়েছে ২৫টি আসন। এই রাজ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৫ আসন। বিজেপি-শিবসেনার জোট বেশি আসন পেলেও গতবারের চেয়ে তারা ২৪টি আসন কম পেয়েছে। অন্যদিকে গতবারের চেয়ে ১৬টি আসন বেশি পেয়েছে কংগ্রেস ও এনসিপি জোট। যে বিষয়টি বিজেপিকে নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে।

অন্যদিকে হরিয়ানার ৯০ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ৪৬টি আসন। এই রাজ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪০টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৩১টি, জেজেপি-১০ এবং অন্যরা পেয়েছে ৯টি আসন। গতবার এই রাজ্যে ৪৭ আসন পেয়ে এককভাবে সরকার গড়েছিল বিজেপি। কিন্তু এবার সাতটি আসন পেয়ে এককভাবে সরকার গড়ার কোনো সুযোগ তাদের হাতে নেই। জেজেপি ১০ আসন পাওয়ায় এই দলের নেতা দুষ্মন্ত চৌতালা কিংমেকার হিসেবে আবির্ভূত হন। শেষ পর্যন্ত তারই সমর্থন নিয়ে আবারও হরিয়ানায় সরকার গড়েছে বিজেপি। বিজেপির মনোহরলাল খাট্টার দ্বিতীয়বার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গতকাল রবিবার শপথ নিয়েছেন। চণ্ডীগড়ের রাজভবনে একটি অনুষ্ঠানে তার পাশাপাশি উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দুষ্মন্ত চৌতালা। কংগ্রেসও দুষ্মন্ত চৌতালার দলের সঙ্গে জোট গড়তে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি সাড়া না দেওয়ায় তারা সরকার গড়ার দাবি থেকে ছিটকে যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিজেপির পক্ষে হরিয়ানার   ফল একেবারেই আশানুরূপ হয়নি। হরিয়ানায় লোকসভার ১০টি আসনেই জয়ী হয়েছিল তারা। সেই হিসেবে এবার একাই ৭৫টি আসনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল বিজেপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজ্যে তাদের ১০ মন্ত্রীর মধ্যে আট জনই পরাজিত হয়েছেন। 

অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে এখনো সরকার গঠিত হয়নি। জোট সরকার গড়তে পর্যাপ্ত আসন পেয়েছে বিজেপি-শিবসেনা। কিন্তু ফল প্রকাশের পরপরই বেঁকে বসতে শুরু করে শিবসেনা। এবারের মন্ত্রিসভায় ৫০:৫০ পদ দাবি করেছে দলটি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পদেও অর্ধেক মেয়াদ চেয়েছে তারা। আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে. ভোটের আগেই জোট বেঁধে যে রাজ্যে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাতের মুঠোয়, সেই মহারাষ্ট্রে, পদ্মশিবিরে ফের কাঁটা হয়ে ফুটছে শরিক দল শিবসেনা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দুই দিনের মাথায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদের আধাআধি ভাগ চেয়ে বিজেপিকে শর্ত দিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের দল। আর তা না পেলে, বিজেপির বদলে অন্য কারো সঙ্গে হাত মেলানোর হুমকিও দিয়েছে তারা।

রাজ্যের মোট ২৮৮ আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে রয়েছে ১০৫টি, শিবসেনার ঝুলিতে ৫৬ আসন। মোট ১৬১। ম্যাজিক ফিগার ১৪৫ থেকে বেশ কয়েকটাই বেশি। কিন্তু গতবারের তুলনায় দুই শরিকেরই আসন সংখ্যা এবার কমেছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের জোট এবার ১০০ ছাড়িয়েছে। এসব অঙ্ক কষেই, ‘ঝোপ বুঝে কোপ’ মেরেছে শিবসেনা।

গত শনিবার বৈঠকে বসেছিলেন শিবসেনার নির্বাচিত বিধায়করা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পদের অর্ধেক মেয়াদে চাইবে শিবসেনা। দলটির বিধায়ক প্রতাপ     সরনায়েক গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে উদ্ধব ঠাকরে বিজেপির উচ্চতম নেতৃত্বের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি  চান। তিনি অমিত শাহ হতে পারেন বা দেবেন্দ্র ফড়নবীসও হতে পারেন।

বিজেপিকে ৫০-৫০ ফরমুলায় বিশ্বাস রাখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর পদ দুই দলের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করতে হবে। তবে শিবসেনার তরফে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে পাল্লা যে আদিত্য ঠাকরের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে সেটা স্পষ্ট।

মহারাষ্ট্রে এই দুই শরিকের টানাপড়েন নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তর দর কষাকষি চলেছে, কখনো জোট ভাঙার পরিস্থিতি পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু এবার বিজেপি শর্ত না মানলে কী পদক্ষেপ নেবে শিবসেনা? তার উত্তরে ভিন্ন সমীকরণের কথাও বলেছেন প্রতাপ সরনায়েক। বিজেপি না তারা অন্য কারো হাত ধরতেও প্রস্তুত। এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্র বিধানসভার যে অঙ্ক, তাতে বিজেপিকে বাদ দিয়েও সরকার তৈরি হওয়া সম্ভব। শরদ পওয়ারের এনসিপি (৫৪ আসন) ও কংগ্রেস (৪৪ আসন) মিলে মোট ৯৮টি আসন রয়েছে। এই জোটের অন্য তিন শরিক পেয়েছে চারটে আসন। তাতে শিবসেনার ৫৬ আসন যোগ হলে তা অনায়াসেই ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে মহাঅস্বস্তির মুখে পড়েছে বিজেপি।

এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে               বলা হয়েছে, রাজ্য নির্বাচনের ফল দেখে জাতীয় রাজনীতির হাওয়া বুঝবার চেষ্টা করা বিচক্ষণতা নয়। মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা জানিয়ে দিল, রাজনীতির নতুন গতিপথ রচনা করা এখনো সম্ভব।