পালটা আঘাতে ট্রাম্প

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৯

ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত শুরু করেছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প অপরাধ করেছেন এমন প্রমাণ পেলে তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেবেন ডেমোক্র্যাটরা। শেষ পর্যন্ত অভিশংসন করতে ব্যর্থ হলেও আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড়ো ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ছাড়বার পাত্র নন। তিনি নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন যা ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশ্য করে হতে পারে। অর্থাত্ তিনি পাল্টা আঘাত হানতে পারেন। তাহলো রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের গোপন আঁতাতের বিষয়টি যাচাইয়ে করা রাশিয়ার তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয়েছে কি না সেই ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

 

তদন্তের উত্স নিয়েই তদন্ত

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল কি না সেই বিষয়ে জানতে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান রবার্ট মুলারকে দিয়ে তদন্ত করে। গত মার্চে সেই রিপোর্টও আংশিক প্রকাশ করা হয়। যদিও এতে ট্রাম্পকে নির্বাচনে জিতিয়ে দিতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল কিংবা ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজসে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত মে মাসে তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা শুরু হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, মুলারের তদন্তের উত্স নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তদন্তের উত্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি তদন্ত করতে যারা উত্সাহ জুগিয়েছে তাদের খুঁজে বের করার কথা বলেছিলেন। এবার সেই প্রক্রিয়া শুরু হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। কানেকটিকাট বিষয়ক মার্কিন অ্যাটর্নি প্রসিকিউটর জন ডুরহামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি এ ব্যাপারে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও প্রমাণ দেওয়ার সমন জারি করেছেন। এতে ডুরহাম তদন্তের সঙ্গে জড়িত অনেককে তলব করতে পারেন। অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে মার্কিন বিচার বিভাগ অত্যাবশ্যকীয়ভাবে নিজেদের পক্ষ থেকেই ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করছে। তবে এ ক্ষেত্রে কী ধরনের অপরাধ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তবে এটা ডেমোক্র্যাটদের টার্গেট করে করা হচ্ছে, সেটা অনুমান করা যাচ্ছে।

 

ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্ত কেন

অভিশংসন প্রক্রিয়া মানে এক অর্থে প্রেসিডেন্টকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। যার ফলে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা সম্ভব। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ২০২০ সালের তার সবচেয়ে সম্ভাব্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত না করলে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। জো বাইডেন সম্পর্কিত কোনো ক্ষতিকর তথ্য তার বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর জন্য তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর এমন তদন্তের চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প অভিযোগ করছেন যে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জো বাইডেন ইউক্রেনকে একটি অপরাধ তদন্ত না করার ব্যাপারে চাপ দিয়েছিলেন। ওই তদন্তে তার ছেলে হান্টার বাইডেনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বের হয়ে আসতে পারে বলে সেটি তিনি ঠেকাতে চেয়েছিলেন। হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের মালিকানাধীন গ্যাস কোম্পানি ইউক্রেন ওলিগার্কের বোর্ডে একজন সদস্য হিসেবে ছিলেন।

 

যা থেকে বিবাদের শুরু

গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ফোনালাপ হয়েছিল। সেটি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেছেন। আর তার পরই এই বিতর্ক সামনে আসে। মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ফোনকলটি শুরুর আগে ট্রাম্প তার ভারপ্রাপ্ত দপ্তর প্রধানকে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা অন্তত এক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বলেছেন।