মাছচাষে পুকুরে ঘটে গেছে নীল বিপ্লব

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৪

গোসল করা, কাপড় ধোয়া, বাসন পরিষ্কারের বাইরেও গ্রামীণ পুকুরের অর্থনৈতিক ব্যবহার বেড়েছে। দেশে উত্পাদিত মাছের বেশির ভাগই এখন আসে পুকুর থেকে। পুকুরে মাছ চাষে অনন্য দৃষ্টান্ত সারা বিশ্বে স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। পুকুরে মাছ বৃদ্ধিতে নীল বিপ্লব ঘটে গেছে।

গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘দ্যা মেকিং অব অ্যা ব্লু রেভ্যুলেশন ইন বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। খাদ্য নীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি) দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. শহীদুর রশিদ এবং চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াওবো ঝ্যাং বইটি সম্পাদনা করেন। বইটি প্রকাশও করেছে ইফপ্রি।

বাংলাদেশের মাছ চাষ নিয়ে চার বছরে সাতটি গবেষণা করেছে ইফপ্রি। ঐ গবেষণায় বলা হয়েছে,  বাংলাদেশের উত্পাদিত মাছের ৫৬ শতাংশ এখন আসছে পুকুর থেকে। পুকুরে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের ফলে দেশে মাছের মোট উত্পাদন গত ৩৪ বছরে ছয় গুণ বেড়েছে। আর শুধু পুকুরে মাছের উত্পাদন বেড়েছে ১২ গুণের বেশি। দেশের প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ এখন মাছ চাষ এবং এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে এ খাতের অবদান শীর্ষ তিনের মধ্যে রয়েছে। আর কর্মক্ষম মানুষের ২৩ শতাংশ এখন কোনো না-কোনোভাবে মত্স্য খাতের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ ১৯৯০ সালে ছিল বছরে সাড়ে সাত কেজি, এখন তা ৩০ কেজি। তিন দশক আগে পুকুরে মাছের উত্পাদন হতো ১ লাখ ৭৮ হাজার টন এখন তা ১২ গুণের বেশি বেড়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুত্ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ইফপ্রির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. আখতার আহমেদ, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মোর্শেদ।