হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে আগামীতে সম্পূর্ণ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া ঢাকায় সম্পন্ন করবে সৌদি আরব সরকার। চলতি বছর থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা ছিল আংশিক। আগামী বছর ১ লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী এ সুবিধা পাবেন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। জেদ্দা এবং মদিনা বিমানবন্দরে প্রতি হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের দুর্ভোগ এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কষ্টদায়ক দুঃসহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৌদি সরকার মুসলিম দেশগুলোতে গত তিন বছর ধরে প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন চালু করেছে। ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’ এর আওতায় বাংলাদেশে চলতি বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের দুই নম্বর টার্মিনালের ১১ নম্বর গেটটিকে ‘হজ গেট’ ঘোষণা করে সেখানে সৌদি আরব থেকে আগত কর্মকর্তারা ৬২ হাজার হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। ফলে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে নেমে আর ইমিগ্রেশনের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর প্রায় অর্ধেক হজযাত্রী সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন জেদ্দার পরিবর্তে ঢাকায় সম্পন্ন করেছেন। ২০২০ সালে সব হজযাত্রীকে এ কর্মসূচির অধীনে আনা হবে। বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে কোটা হিসেবে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানে ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন, বাকিরা সাউদিয়া এয়ারলাইন্স যোগে হজে যান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কোটা বাড়ানোর জন্য সৌদি সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও তারা এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। আরব নিউজের এক খবরেও বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দরেই হজযাত্রীরা তাদের অভিবাসন বিষয়ক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ উত্তরার আশকোনায় হজ ক্যাম্প সম্প্রসারণ ও সংস্কার কার্যক্রম সংক্রান্ত সভায় বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ হাব এর সভাপতি আলহাজ মো. শাহাদত হোসেন তাসলিম ইত্তেফাককে বলেন, চলতি বছর ঢাকাতে ৬২ হাজার হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে সৌদি আরবের পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করা সম্ভব হয়নি। তবে পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন না হলেও হাতের ১০ আঙুলের ছাপ, পাসপোর্ট স্ক্যান, ছবি উঠানোসহ অন্য কাজগুলো শাহজালালে করা হয়। ফলে জেদ্দায় হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশনে খুব বেশি সময় লাগেনি। তাসলিম জানান, বর্তমানে ১ লাখ ৯০ হাজার মুসল্লি হজে যাওয়ার জন্য প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আগামীতে তাদের মধ্য থেকে যারা নিবন্ধন করবেন তারা হজে যেতে পারবেন।
