গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দুটি আলাদা স্থানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ৮১ বিএনপি নেতাকর্মীর নামে দুটি মামলা হয়েছে। তবে বিএনপির দাবি এগুলো ‘গায়েবি’ মামলা।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক মামলা দুটির কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া ইউনুস মার্কেটের উত্তর পাশে নির্বাচনী প্রচার কার্যালয়ের সামনে ওয়ার্ড যুবলীগ গত বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী পথ সভার আয়োজন করে। একই সময়ে মার্কেটের দক্ষিণ পাশে ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচনী প্রচার সভার আয়োজন করে। বিকেলে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা হাজির হলে হঠাত্ করে ওই মার্কেটের আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পথ সভায় হামলা করে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আব্দুল গাফ্ফার বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ৪৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন। অপর দিকে, তরগাঁও হাসপাতাল মোড়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতিকালে হামলা করে দাঙ্গাহাঙ্গামা করার অভিযোগে তরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সিদ্দিকি বাদী হয়ে বিএনপির ৩৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপর মামলা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বিএনপির লোকজন আমাদের নির্বাচনী প্রচারণাকালে হামলা করেছে। নেতাকর্মীদের মারধর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের পূর্বনির্ধারিত সভাকে বানচাল করার জন্য কয়েকটি পটকা ফুটিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে। পরে তারা তাদের চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে আমাদের ৪৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের করেছে। ভিত্তিহীন অপর একটি ঘটনা দেখিয়ে তরগাঁও এলাকার ৩৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা করা হয়েছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়েদ ইউনিয়নের বড়হর বাজার, চক বড়হর নতুন বাজার ও কোঠামনি বাজারে আমাদের সকল পোস্টার পুড়িয়ে দিয়ে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করে জাকারিয়া নামে একজনকে আহত করেছে।
