উদ্ভিদ ছোট বৃক্ষ। পাঁচ থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কলকির মতো হওয়ায় একে বলে কলকে। কলকি, হলদি কলকি, কড়ি ইত্যাদি নামেও পরিচিত। অনেকে একে ‘করবী ফুল’ ভেবে ভুল করেন। বৈজ্ঞানিক নাম Cascabela thevetia, Apocynaceae পরিবারের উদ্ভিদ। ফরাসি উদ্ভিদবিদ আন্দ্রে থিভেট-এর নামানুসারে এই গণের নামকরণ করা হয়েছে। ফুলের ছবিটি ময়মনসিংহের জয়নুল পার্ক এলাকা থেকে তোলা।
গাছ সারা বছর সবুজ পাতায় ঢাকা থাকে। কাণ্ড নাতিদীর্ঘ, মসৃণ, সাদাটে ধূসর। ছোটোখাটো গাছ। গাছের ডাল কাটলে বা ভাঙলে সাদা দুধের মতো আঠালো ল্যাটেক্স বের হয়। এই ল্যাটেক্স ক্ষতরোগে উপকারী। পাতা চিকন ও সরু। লম্বায় ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়, চওড়ায় ২ সেন্টিমিটার। রং ঘন সবুজ। বোঁটা ছোটো। পাতা সরু, ছুরির মতো শেষ প্রান্ত সুচালো। পাতা ঘনভাবে সুবিন্যস্ত। কলকের ফুল শুধু হলুদ না হয়ে সাদা গোলাপি, হালকা লালও হয়। ফুল লম্বায় ১০ সেন্টিমিটার। কলকে গাছের শাখার মাথায় ফুল ধরে। বৃত্যাংশগুলো একটার সঙ্গে আর একটা লাগানো, সবুজ। লম্বায় ৩ সেন্টিমিটার। ফুলের পাপড়ি পাঁচটি। পাপড়িগুলো পরস্পর যুক্ত। পাপড়িগুলো প্যাঁচানো থাকে একটার সঙ্গে একটা, নলাকৃতি। ফুলে মধু থাকে। জোড়ায় জোড়ায় ফল ধরে। ফলের দুই প্রান্ত ঢালু তবে মধ্যখানে উঁচ। অনেকটা ডিমের মতো। ফল ফ্যাকাসে হলদে। ডিমের ভেতর বীজ থাকে। প্রতি ফলে দুটি বীজ থাকে। বীজ থেকে বংশ বিস্তার হয় ।
বীজ পাকলে ফ্যাকাসে বাদামি হয়। ছালে কার্ডিওঅ্যাকটিভ, গ্লাইকোসাইড থাকে। পাতা ও বীজে গ্লাইকোসাইড রয়েছে। ছাল ও বীজ কর্ডিয়াক টনিক ও কার্ডিয়াক স্টিমুলেন্ট হিসাবে ব্যবহার করা হয়। শক্তিশালী রেচক। পাতাতেও রয়েছে একই ধরনের গুণ। বীজ অত্যন্ত বিষাক্ত। বীজ ব্যবহার করে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাত ঘটানো যায়। বাতরোগে ও পা ফোলা রোগে কয়েকটি বীজ বেটে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত কয়েকদিন লাগালে পা ফোলা ও বাতরোগ ভালো হয়।
