n খাদিজা খাতুন স্বপ্না
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের (এএফডিবি) যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল-২০১৯’। গত ২৬ অক্টোবর গুলশানের গ্র্যান্ড হল অডিটোরিয়ামে এই উত্সবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বিশেষ অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল হালিম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি ও সাবেক সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম। এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কেএম হাবিব উল্লাহ।
এ সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁত শিল্পকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ শিল্পের উন্নয়নে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন দেশে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে, তাঁতিদের জন্য বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। দক্ষতা উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। তাঁত শিল্পের উত্পাদন বাড়াতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ মেলা প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে ২৪ অক্টোবর শুধু বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হয়েছে তাঁত পণ্য। যেখানে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তাসহ বিদেশি অতিথিদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেদিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।
অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের সভাপতি মানতাশা আহমেদ বলেন, ‘সবসময় তাঁত পণ্য বিক্রয়ের জন্য অনলাইন শপ, বিমানবন্দরে দোকান বরাদ্দ, প্রতিটি বিভাগে তাঁত মিউজিয়ামের সঙ্গে কটেজ ইন্ডাস্ট্রি শপ, বছরে একবার তাঁত সপ্তাহ পালন, তাঁত পণ্যের প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেলার আয়োজন করা প্রয়োজন।’
এবারের উত্সবে মোট ৪৫টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা, বেনারসি শাড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানি শাড়ি, সিরাজগঞ্জের শাড়ি-লুঙ্গি-গামছা, মণিপুরি কাপড়, রাঙামাটির চাকমাসহ অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর তৈরিকৃত কাপড়, খাদি, রাজশাহী সিল্ক, পাটজাত পণ্য, শতরঞ্জি পণ্য, বাঁশ-বেত পণ্য, পট চিত্রসহ ১৫ ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হয়।
তাঁতিদের উত্পাদিত পণ্যের পাশাপাশি ও দেশের শীর্ষস্থানীয় চিত্রশিল্পী ও ডিজাইনারদের তৈরি আর্কষণীয় দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য বুনন প্রক্রিয়াও প্রদর্শন করা হয়। উত্সবে লোকজ শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, সেমিনার, ক্রেতা-বিক্রেতা ও ম্যাচমেকিংয়ের ওপর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রথম দিনে এ উত্সবের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কে এম হাবিব উল্লাহ।
তাঁতিদের উত্পাদিত পণ্যের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় চিত্রশিল্পী ও ডিজাইনারদের তৈরি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীর পাশাপাশি এসব পণ্যের বুনন প্রক্রিয়াও প্রদর্শিত হয়। অন্যান্য আয়োজনে ছিল লোকজ শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা, ফ্যাশন-শো, সেমিনার, ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচমেকিং ইভেন্ট।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় তাঁত পণ্য প্রস্তুতকারকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় উঠে আসে উত্সবে অংশ নেওয়া অতিথিদের কথায়। এই উত্সবের ফলে দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে তাঁত পণ্য ও তাঁতিদের সার্বিক কল্যাণের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মত দেন আয়োজকেরা।
স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহা ফেস্টিভ্যালটি আয়োজনে সার্বিক সহায়তা করেছেন। এদিকে মানতাশা আহমেদ, কুহু প্লামডন, কণকচাঁপা চাকমা, বিপ্লব সাহাসহ স্বনামধন্য ডিজাইনারদের ডিজাইন করা পণ্য প্রদর্শনীতে স্থান পায়।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কে এম হাবিব উল্লাহর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের (এএফডিবি) সভাপতি মানতাশা আহমেদ।
দেশের আটটি বিভাগে মেলাসহ হ্যান্ডলুম দিবস কিংবা সপ্তাহ চান আয়োজকেরা। হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের উপস্থিতিতে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশের (এএফডিবি) প্রেসিডেন্ট মানতাশা আহমেদ।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম সূচনা বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ লোক এই পেশায় জড়িত। এখান থেকে মূল জিডিপির প্রায় ২৫ % আসে। উদ্যোক্তা ছাড়া কখনো দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা সরকারের কাছে একটি বাণিজ্যিক প্লট চেয়েছি। সেটা পেলে সারা বছর উদ্যোক্তারা মেলা করতে পারবে।’
