পাকিস্তানে ডাক্তারের অবহেলায় এক শহরেই ৯’শ শিশু এইডস আক্রান্ত

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০০

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের রাতোদেরো শহরে মরণ ব্যাধি এইডস মহামারি আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭ মাসে অন্তত ৯’শ শিশু এইচআইভি এইডস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাছাড়া আরও অন্তত ২’শ প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অধিকাংশ শিশু আক্রান্তের কারণ হিসেবে একজন ডাক্তার কে দায়ী করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ওই চিকিৎসক একই সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করেছেন। খবর ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ এর। 

পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, ওই এলাকাতে অন্তত ২ লক্ষ মানুষের বাস। ধারণা করা হচ্ছে এইডস আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। 

জানা গেছে, রাতোদেরো শহরটিতে দরিদ্র লোকের সংখ্যা বেশি। অভিযুক্ত ডা. মোজাফফর ঘাংঘ্রো চিকিৎসা ফি কম নেওয়ায় অধিকাংশ রোগীই তার কাছে যেতো। তবে তিনি শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একই ইনজেকশন সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহার করতেন। 

আরও পড়ুন: বাড়লো জাতীয় লিগের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি

ইমতিয়াজ জালবানি নামের একজন ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইসম’ কে জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে ডা. মোজাফফরের কাছে তার ছেলেকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। তখন ডাক্তার ময়লার পাত্র থেকে একটি পুরাতন সিরিঞ্জ বের করে তার ছেলেকে ইনজেকশন দেয়। এসময় তিনি অভিযোগ করলেও ডাক্তার বলেন এত কম টাকায় এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। এ ঘটনার কয়েক মাস পরই তার ছেলের এইডস ধরা পড়ে। 

২ সন্তান হারিয়ে বিধ্বস্ত ইমতিয়াজ জালবানি

জালবানির ৬ সন্তানের মধ্যে ২ জন ইতোমধ্যে এইডস রোগে মারা গেছে। আরও ২ সন্তান এ রোগে চিকিৎসাধীন আছে।  

এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোজাফফরকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অবহেলা ও হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ওই ডাক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

রাতোদেরোতে শিশু ছাড়াও অন্তত দুই’শ মানুষ এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর কারণ হিসেবে স্থানীয় সেলুনে এক ব্লেড একাধিকবার ব্যবহার ও দন্ত চিকিৎসকের অবহেলাকে দায়ী করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসইউ