নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৫৮

দিলীপ কুমার রায় , সহকারী শিক্ষক

তালুক শাখাতী উচ্চ বিদ্যালয়, লালমনিরহাট

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা , তোমরা যারা এবারে এস.এস.সি পরীক্ষা দিবে তাদের জন্য ভূগোল ও পরিবেশের  সম্ভাব্য প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করছি। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এগুলো ভালোভাবে পড়বে ।

নিচের উদ্দিপকটি ভালোভাবে পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও ।

১। (ক) ব দ্বীপ কী  ?

(খ)  M চিহ্নিত অঞ্চলটি কী ? এর বর্ণনা দাও।

(গ) সামপ্রতিক কালের প্লাবন সমভুমির  শ্রেণী বিভাগগুলি আলোচনা কর।

(ঘ) “সামপ্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের জীবন যাত্রাজীবন যাত্রা সহজসরল এবং কৃষি কাজের অনুকুল পরিবেশ বিরাজ করে “  - উক্তিটির সাথে তুমি কী একমত ? তোমার মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তরঃ ১। (ক)   নদীর নিম্নগতিতে বিশেষ করে নদী যখন  মোহনায় পানির সাথে মিশ্রিত শিলাচূর্ণ , বালি , কাদা প্রভৃতি তলানিরূপে সঞ্চিত হয়ে যে ত্রিকোণাকার সমভুমির সৃষ্টি হয় তখন তাকে ব-দ্বীপ বলে।

(খ) M চিহ্নিত অঞ্চলটি হচ্ছে মধুপুরও ভাওয়ালের গড়। এটি টাংগাইলও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।

উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদ হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ অঞ্চল বিস্তৃত । এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভুমি । এ উচ্চ উত্থিত অঞ্চলটির মোট আয়তন ৪১০৫ বর্গকিলোমিটার ( ১৫৮৬ বর্গমাইল । টাংগাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে অবস্থিত এ অঞ্চলের উত্তরাংশ মধুপুর গড় নামে পরিচিত এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত এ অঞ্চলের দক্ষিণাংশ ভাওয়ালের গড় নামে পরিচিত ।

(গ) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত তালুকশাখাতী উচ্চবিদ্যালয়ের কথা বলা হয়েছে যা টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান নামে পরিচিত।

আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। এসময়েই টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চল গঠিত হয়েছিল।এ অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গ কিলোমিটার।

এ অঞ্চলের ভুপ্রকৃতি কিছুটা উঁচু প্রকৃতির। সমভুমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০মিটার। মাটির রঙ লালচে ও ধুসর। এসব অঞ্চলের ভু-প্রকৃতি অনুর্বর এবং মৃত্তিকা অনেকটা সোপান আকৃতির। সাধারণত টাঙ্গাইল , ময়মনসিংহ এবং গাজিপুর অঞ্চলে এধরনের মৃত্তিকা পরিলক্ষিত হয়।

(ঘ)  উদ্দীপকে উল্লেখিত ১ম দলটি রাঙ্গামাটি অঞ্চলে ভ্রমণ করে এবং ২য় দলটি খুলনা অঞ্চলে ভ্রমণ করে। উভয় অঞ্চলের মধ্যে মাটির রং , গঠন ও ঢালের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। সেই সাথে উভয় অঞ্চলের মধ্যে উত্পাদিত কৃষিজ দ্রব্যের  বৈসাদৃশ্যতা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পুর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ নিয়ে রাঙ্গামাটি অঞ্চল গঠিত হয়। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬০০ মিটার। প্রায় ১২৩১ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট পাহাড় তাজিনডং এঅঞ্চলে অবস্থিত এ অঞ্চলে সাধারণত জুম চাষ হয়। তাছাড়া চা , রাবার , আনারস ও কমলালেবু এ অঞ্চলে চাষাবাদ হয়। খুলনা অঞ্চল বাংলাদেশের সামপ্রতিক কালের প্লাবন সমভুমির আওতায় অবস্থিত। এ অঞ্চলের ভূ প্রকৃতি পলল সমভুমি দ্বারা গঠিত। এখানকার মাটি খুব উর্বর এবং মানুষ বসবাসের উপযোগী। এ অঞ্চল কৃষিকাজে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। ধানও পাট এখানকার প্রধান ফসল। এখানকার বিল -ঝিলও হাওড়গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। দেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর উপকুলে খুলনার নিম্ন সমতল ভুমি। এ এলাকায় ১৬১ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে রয়েছে সুন্দরবন। এখানে প্রচুর নরম কাঠ ,পশুপাখি , মাছ ইত্যাদি পাওয়া যায়।