নদীভাঙনে মেহেন্দীগঞ্জের দুই ইউনিয়ন বিলীনের পথে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৮

প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদী ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা মেহেন্দীগঞ্জবাসীর কাছে নতুন কিছু নয়। মেহেন্দীগঞ্জের শ্রীপুর ও চাঁনপুর ইউনিয়নের মানুষকে বর্ষা মৌসুম আসলেই নদী ভাঙনের মুখোমুখি হতে হয়। প্রত্যেক বছরই নদী ভাঙনে কোনো না কোনো গ্রাম আর হাজারও মানুষের ভিটেমাটি বিলীন হয়। এ যেন প্রকৃতির নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষ হলেও শ্রীপুর ও চাঁনপুর ইউনিয়নের ভাঙন অব্যাহত থাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে।

শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ মোল্লা জানান, গত তিন বছরের ভাঙনে নালী বাড়ির ১২ একর জমি, মাহাতাব বেপারির তিন একর, কাশেম খানের দেড় একর, মকবুল খানের দুই একর, কাল্টু বেপারির চার একর জমির সুপারির বাগানসহ বিলীন হয়ে গেছে। এরমধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, শ্রীপুর বাজার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিলা মাদ্রাসা, কওমি মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে শ্রীপুরের নির্মাণাধীন সাইক্লোন শেল্টারসহ পুরাতন সাইক্লোন শেল্টার, বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরচর কমিউনিটি ক্লিনিক।

চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঢালী জানান, বর্ষা মৌসুমে ইলিশা নদীর ভাঙনে ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। এতে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িঘর, ফসলি জমি বিলীন হয়ে ৩ হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।