বাগদাদির তথ্য দেয় তার সহযোগী

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৩০

আইএসের প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদিকে ধরতে কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চলছে। অন্তত ৩৫ বার তার নিহত হওয়ার খবর দিলেও শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়নি। তবে রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অভিযান এবং বাগদাদির আত্মঘাতী হওয়ার তথ্য তুলে ধরেন। ইরাকি গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, বাগদাদি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তারই সহযোগী। খবর রয়টার্সের

বাগদাদির সহযোগী ছিলেন ইসমাইল আল-এথাই। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরাকি গোয়েন্দাদের তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন। ইসমাইলকে গ্রেফতার করেছিল তুরস্ক। পরে দেশটি ইরাকের কাছে তাকে হস্তান্তর করে। ইরাকের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই বাগদাদির চলাফেরা ও তার স্থান চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। তিনি জানিয়েছিলেন, বাগদাদি তার কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করতে মিনিবাস ব্যবহার করতেন। ঐ বাসে শাক-সবজি থাকত। এর ফলে তাকে চিহ্নিত করা সম্ভব হতো না। কর্মকর্তা বলেন, ইসমাইল বাগদাদিসহ পাঁচ জনের তথ্য দিয়েছিলেন। তারা সিরিয়া এবং ইরাকের বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করতেন। ইরাকের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ইসলামিক সায়েন্সে পিএইচডি করা ইসমাইল বাগদাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যই বাগদাদিকে খুঁজে পেতে সহায়তা করে।

চলতি বছরে ইরাক, তুরস্ক এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের দল যৌথ অভিযান চালায়। ঐ সময় আইএসের সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা বাগদাদির সঙ্গে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ঐ তথ্য মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর সঙ্গে আদান-প্রদান করা হয়। তথ্যে পাওয়া এলাকায় সিআইএ আরো এজেন্ট নিয়োগ করে। চলতি বছরের মাঝামাঝি জানা যায়, বাগদাদি পরিবারের সদস্য ও তিন সহযোগীকে নিয়ে ইদলিব প্রদেশের এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাচ্ছেন। এক তথ্যদাতা সিরিয়ার ইদলিবের একটি মার্কেটে এক ইরাকিকে দেখতে পান যিনি ছিলেন ইসমাইল। তাকে অনুসরণ করেন ঐ তথ্যদাতা। একপর্যায়ে ইসমাইল বাগদাদির বাড়িতে যান। সঙ্গে তথ্যদাতাও যান। এরপর সেই তথ্য সিআইএকে দেওয়া হয়। গত পাঁচ মাস ধরে সিআইএ ড্রোন এবং স্যাটেলাইট দিয়ে বাগদাদির বসবাসের স্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায়। দুই দিন আগে বাগদাদি পরিবারকে নিয়ে আগের স্থান ত্যাগ করেন। একটি মিনিবাসে করে অন্য গ্রামে যান। এটাই ছিল বাগদাদির শেষ ভ্রমণ।

বাগদাদির স্থানীয় শত্রু

আবু বকর আল-বাগদাদির স্থানীয় শত্রু ছিল হায়াত তাহরির আল-শ্যাম ওরফে নুসরা ফ্রন্ট। এরাই ইদলিব শাসন করে। তারাও ইদলিবে বাগদাদির খোঁজে তল্লাশি চালায়। নুসরা ফ্রন্ট এবং আইএস একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। নুসরা ফ্রন্ট আবু সুলেইমান আল-খালিদি নামের এক কমান্ডারকে গ্রেফতার করে। বাগদাদির শেষ ভিডিও বার্তায় খালিদিকে তার পাশে দেখা যায়। এই খালিদিও বাগদাদি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।

অভিযান উত্সর্গ কায়লা মুলারকে

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ায় খুন হয়েছিলেন মার্কিন মানবাধিকার কর্মী কায়লা মুলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়ায় মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করতে যান কায়লা। তাকে অপহরণ করে আইএস জঙ্গিরা। জানা যায়, তাকে ধর্ষণ করে খুন করে খোদ আইএস প্রধান বাগদাদি। রবিবার আইএস প্রধানের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর এই অপারেশন উত্সর্গ করা হয়েছে অ্যারিজোনার বাসিন্দা সেই কায়লা মুলারকেই। ওয়ার রুমে বসে বাগদাদির ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের দৃশ্য লাইভ দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাতে উচ্ছ্বসিত তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কেমন তাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। ‘মনে হচ্ছিল যেন সিনেমা দেখছি।’