বিএসএমএমইউ-এর পরিচালক সরকারের শেখানো কথাই বলছেন ------------------- রিজভী

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৩৪

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ এর পরিচালক সরকারের শেখানো কথাই বলছেন। পরিচালকের বক্তব্যে এটি সুস্পষ্ট যে, ৭৫ বছর বয়সি ভয়ানক অসুস্থ চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাবন্দি রেখে বিনা চিকিত্সায় তিলে তিলে নিঃশেষ করার মহাআয়োজন চলছে। প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে পরিচালকের বক্তব্যে। তার বক্তব্যের অনেকাংশই এখতিয়ারবহির্ভূত। তার এই বক্তব্য অযাচিত, অগ্রহণযোগ্য, অসৌজন্যমূলক, পূর্বকল্পিত ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী। গতকাল বিকালে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিএসএমএমইউ এর পরিচালক খালেদা জিয়ার চিকিত্সা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে গিয়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভালো আছেন, চিকিত্সায় তিনি সন্তুষ্ট। সাত মাস আগে খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও বাতজ্বরজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও এখন বেশির ভাগ অসুখের উন্নতি হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছে।’ পরিচালক আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও দেখা পাওয়া যায় না। প্রায় সময় ডাক্তাররা কেবিনে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান না।’ অথচ বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ঝিলন মিয়া সরকার বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া চিকিত্সকদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেন এবং অত্যন্ত বিনয়ী ব্যবহার করেন। তিনি হাঁটতে পারেন না, অন্যজনের সহায়তায় তাকে হাঁটতে হয়। তার আরো চিকিত্সা প্রয়োজন। ম্যাডাম আমাদের সঙ্গে সবসময় হাসিখুশিভাবে কথা বলেন। কিন্তু চিকিত্সক হিসেবে নানা অসুবিধার কারণে আমাদেরও প্রতিদিন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয় না।’ অধ্যাপক ঝিলন মিয়া সরকারের এ বক্তব্যের সঙ্গে পরিচালকের বক্তব্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ। রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রাণনাশের দুরভিসন্ধি নিয়েই তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন তার শরীর ভেঙে পড়ছে, স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। উন্নতমানের চিকিত্সার অভাবে তিনি চলত্শক্তিহীন হয়ে পড়ছেন। তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিত্সার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষের অব্যাহত দাবি ও তার পরিবারের আবেদন-অনুরোধ কানে তুলছে না সরকার। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিত্সার সুযোগ দিন। অন্যথায় তার যদি কোনো ক্ষতি হয় তবে সব দায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারকেই বহন করতে হবে।