হূদয় জুড়ে বিজয়...

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৫৭

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। পাকিস্তানি শাসকের শোষণ, নিপীড়ন আর দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাংলার বীর সন্তানেরা। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সূর্যালোকে ঝিকমিক করে ওঠে বাংলার রক্তভেজা মাটি। তাই ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস, মুক্তির দিন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। কিন্তু বিজয় দিবসের গুরুত্ব কমেনি এতটুকু। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, শহীদদের ত্যাগের কথা। মনে করিয়ে দেয় বাংলাদেশ নামে একটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা। এই দিনকে নিয়ে বড়দের মতো ছোটদের মনেও উঁকি দেয় কত কথা, কত স্বপ্ন। ছোটদের মনে জমে থাকা কথাগুলো জানাচ্ছেন—রুমান হাফিজ 

 

বিনম্র শ্রদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি   

রুবাইয়া খানম জুহি

ষষ্ঠ শ্রেণি, অক্সফোর্ড মডেল স্কুল, সিলেট

 

বাঙালি জাতির জীবনে ১৬ ডিসেম্বর একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। এ দিনটি আমাদের বিজয় দিবস। ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর চালায় নির্মম ধ্বংসলীলা। বাঙালি জাতি মাতৃভূমি বাংলাকে রক্ষা করতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। অবশেষে বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে মাতৃভূমি বাংলাকে শত্রুমুক্ত করে। আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম লালসবুজ পতাকার বাংলাদেশ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁদের ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়।

 

 

আমরা পেয়েছি

লাল-সবুজের পতাকা

এফ কে হোসাইন রাদিয়াত

চতুর্থ শ্রেণি, হাছান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম

 

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু এদেশ একসময় পরাধীন ছিল। ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে জিম্মি। তারা বাঙালিদের ওপর নানা অত্যাচার, নিপীড়ন চালাত। ওদের অত্যাচার থেকে দেশকে মুক্ত করতে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর ডাকে বাঙালির বীর সেনানীরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁরা স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। আমরা পাই লালসবুজের পতাকা।

 

এই দিনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই দেশটাকে গড়তে 

জুয়ারিয়া জাহান নুসাইবা

নবম শ্রেণি, আগ্রাবাদ বালিকা বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

 

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ভূখণ্ড। বাংলার প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে দেশের জন্য। তাদের এই উত্সর্গের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন রাষ্ট্রে বসবাস করছি। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি পালনের মাধ্যমে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। এই দিনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়তে, বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।

 

 

আমরা বিজয়ী জাতি

চলব মাথা উঁচু করে

রাকিবুল হাসান

ষষ্ঠ শ্রেণি, হাজী মোয়াজ্জেম আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ডেমরা, ঢাকা

 

বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা, যাঁদের দেশপ্রেমে ও বীরত্বে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, তাঁদের আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে আমরা শিক্ষা পাই, দেশপ্রেম, অসীম সাহস ও মনোবল নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করলে জয় সুনিশ্চিত। আমরা বিজয়ী জাতি, চলব মাথা উঁচু করে। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধে নাম জানা এবং না-জানা সেইসব বীর সেনাদেরকে যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা লাভ করেছি সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ।

 

বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে চাই আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস     

সাইয়ারা কবির অতসী

দশম শ্রেণি, ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট, ঢাকা

 

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, আমাদের বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দময় একটি দিন। ১৯৭১ সালে নয় মাস যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় লাভ করেছি। পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। আমার স্বপ্ন—সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার। যেন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে প্রিয় মাতৃভূমি। বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতার ইতিহাস।