স্বপ্নময় আশায় রঙিন বিদায়

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০০

সকলের পরিধানে ধবধবে সাদা টি-শার্ট! প্রিয় বন্ধুটির আবেগিত লেখায় মুহূর্তেই কালো কালির বাক্যে ভরে গেছে প্রত্যেকের টি-শার্ট। ভালো থেকো বন্ধু, জীবনে অনেক বড়ো হও ইত্যাদি। কেউবা আবার দুষ্টুমি করে লিখেছে, তুই অনেক বদ ছিলি রে। এভাবেই চলতে থাকে কিছুক্ষণ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের গল্প এটি।

২২ অক্টোবর, ২০১৯! ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দ ও বেদনাময় একটি দিন। এইতো মাত্র কদিন আগে ভর্তিযুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের প্রথম ব্যাচ হিসেবে সকলের বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় পদার্পণ করা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি পরিবারের মতো করে থেকে মুহূর্তেই যেন কেটে গেল চারটি বছর!

১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা পরেশ চন্দ্র বর্মন ও বিভাগের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী, আসাদুজ্জামান, মতিনুর রহমান, রোখসানা মিলি, গোলাম মর্তুজা ও সেলিম স্যারকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটা হলো।

স্নাতক শেষ করার আনন্দের ঢেউ লাগে প্রিয় শিক্ষকদের মধ্যেও; একে অপরকে কেকের পেস্ট মাখানোর পরে ছবি তুলতে শুরু করেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তাদের নেই কোনো ব্যস্ততা, কোনো ক্লান্তি! দিনটি যেন আমাদের জন্যই উত্সর্গ করেছিলেন! গোলাম মর্তুজা স্যারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমাদের ব্যাচ সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? তিনি গর্বের সঙ্গে বললেন, আমার শিক্ষকতা জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাচ এটি। কেক কাটা, ছবি তোলার পর্ব শেষে ব্যান্ড পার্টির তালে তালে আমরা একে অপরকে রং মাখাতে মাখাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্বর প্রদক্ষিণ করে আনন্দ র্যালি করি। দেখতে দেখতে কখন যে দুপুর গড়িয়ে এলো, আমরা কেউ টেরই পেলাম না। এদিকে হাফিজ গেছে খাবার আনতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে জানাল খাবার আসতে আরো বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগবে। সকলের মনে একটু ক্লান্তি ও বিরক্তির ছাপ লক্ষ্য করলাম। তা দূর করার জন্য আমার মাথায় একটি পরিকল্পনা এলো। মেয়ে সহপাঠীদের সাক্ষাত্কার নেওয়া শুরু করলাম। মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তাদের প্রশ্ন করলাম গ্রাজুয়েশন তো শেষ করলে, এখন বিয়ে করবে নাকি চাকরি? সুরভী, চম্পা, লিমা, নন্দিতা, ফাতেমা, সুমি, সোহানাসহ সকলেই উত্তর দিল অবশ্যই জব করব। নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করব, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখব। এমন উত্তর শুনে অবশ্য নিজের ভেতরে একটি ভালো লাগাও কাজ করছিল।