যারা কথা দিয়ে জয় করে নিয়েছেন অনেকের মন। যাদের কথা শুনে ঘুম ভাঙে অনেকের। যারা হয়ে উঠেছেন সবার কথাবন্ধু। এমনই তিন কথাবন্ধুর সঙ্গে কথা বলেছেন— আফরিন মিম
ফাহিমা ফারুক শান্তু
‘প্রথম যেদিন রেডিও স্টেশনে অডিশন দিতে যাই, সেদিন আমার ভয়েজ শুনে স্টেশন হেড বললেন, তোমার গলা তো ভাঙা। শুনে মনে হলো গলা তো ভাঙা বলেননি, হূদয়টাই ভেঙে দিলেন। অথচ সেই স্টেশনেই আমার প্রথম রেডিও জকি হিসেবে কাজ করা শুরু এবং পাঁচ বছর যাবত্ সেখানেই কাজ করছি’— হাসতে হাসতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কথাবন্ধু ফাহিমা ফারুক শান্তু।
প্যাশন থেকে নয়, বরং শখের বসেই প্রথম অডিশন দেন তিনি। চার ধাপের বাছাই পর্ব এবং সাক্ষাত্কার, লিখিত পরীক্ষা, ভয়েজ টেস্ট এবং গ্রুমিং পর্ব শেষে শুরু হয় তার আরজে হিসেবে পথচলা।
বাবা ব্যবসায়ী, মা গৃহিণী হওয়ায় এবং পুরো পরিবারের কেউই মিডিয়াতে না থাকায় মিডিয়ার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগে যায় শান্তুর। তবে সদা হাস্যোজ্জ্বল শান্তু মনে করেন তার আজকের এই জায়গাটা অনেক সাধনা ও চেষ্টার অর্জন। নানাজনের নানা কটু কথা শুনেও কখনো ভেঙে না পড়ে চেষ্টা করেছেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। আড্ডাবাজ শান্তু মনে করেন, যাদের অন্যের সঙ্গ ভালো লাগে এবং যারা আড্ডা দিতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই জায়গাটা খুব সহায়ক।
শান্তু মনে করে আরজে হিসেবে তার সবচেয়ে বড়ো পাওয়া হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা, নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং নিজেকে আপডেটেড রাখা।
এছাড়া আরজে হওয়ার প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে চাইলেই সমাজে ছোটো বড়ো নানান রকমের অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলা যায়, অ্যাওয়ারনেস ক্রিয়েট করা যায়। একজন আরজের জায়গা থেকে এটাই সমাজের প্রতি একটা ছোট্ট কন্ট্রিবিউশন বলে মনে করেন তিনি।
নাজিবা রশীদ অবনী
‘যেহেতু আমি একজন সংগীতশিল্পী সেহেতু মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলতে পারব এই আত্মবিশ্বাসে ২০১৪ সালে একটি রেডিও স্টেশনে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে আমার রেডিও জকি হিসেবে পথচলা’— বলছিলেন কথাবন্ধু নাজিবা রশীদ অবনী।
মানুষের সঙ্গে মিশতে এবং নতুন নতুন বিষয় জানতে ভালো লাগে অবনীর। ছোটোবেলা থেকে সবার থেকে শুনে আসা অবনী ভালো শ্রোতা এখন হাজার মানুষের কথা শুনে প্রতিদিন।
পরিবারে শুদ্ধ বাংলা বলার চর্চা তার আরজে হওয়ার পথ অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল। পরিবারের সাপোর্টেই আজ এই জায়গাটা তৈরি করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
আরজেইং-এর মাধ্যমে নিজের কথা দ্বারা মানুষের মাঝে সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করার অনুভূতি অন্যরকম বলে মনে করেন তিনি। এখন অনএয়ার আর মাইক্রোফোনই তার প্রশান্তির জায়গা।
যেহেতু স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় এই ক্যারিয়ারে পা রাখে অবনী, তাই তাকে পড়াশোনা এবং পেশা সমানতালে চালিয়ে নিতে কষ্ট হয়েছে অনেক।
অবনী বলেন, ‘আমার প্রথম প্রায়োরিটি সব সময় পড়াশোনা ছিল। মাথায় সবসময় কাজ করত এত মানুষ আমার কথা শুনে, সেজন্য নিজের একটা ভালো এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করা দরকার। এজন্য দুইটাই ব্যালান্স করেছি। যাতে একটার জন্য আরেকটা পিছিয়ে না যায়।’
অঙ্গন ফারিয়া
‘এইচএসসি পাশের পর হাত খরচের টাকার জন্য একটা কিছু করা দরকার, এই ভাবনা থেকে রেডিও স্টেশনের সার্কুলার দেখে অ্যাপ্লাই করি। অডিশন এবং ইন্টারভিউয়ে টিকে যাই। এরপর থেকেই আমি এখানে আছি’— বলছিলেন কথাবন্ধু অঙ্গন ফারিয়া।
তিন বছর হয়ে গেছে কাজ করছেন রেডিও জকি হিসেবে। প্যাশন থেকে এই পেশায় যাত্রা শুরু না করলেও এখন ভালোবাসেন এই পেশাকে। ভালোবাসেন মাইক্রোফোনকে। অঙ্গন বলেন, ‘আমি অনেক কিছু জেনে বা শিখে এই পেশায় আসেনি। কিন্তু আমি কুইক লার্নার। তাই অল্পতেই শিখে নিয়েছি সব।’ পরিবারের সাপোর্টে আজ এত দূর বলে জানান তিনি। রেডিও স্টেশন সবার সঙ্গে সহজে মিথষ্ক্রিয়া করার অন্যতম একটি প্ল্যাটফরম এবং আরজে পেশার মাধ্যমে সহজেই সবার সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করা যায় বলে মনে করেন অঙ্গন।
অঙ্গন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। পড়ালেখার আর আরজেইং একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে কষ্ট হলেও অঙ্গন মনে করেন, যে জিনিসটার প্রতি ভালোবাসা থাকে তার জন্য একটু কষ্ট করাই যায়।
