শহরের যেখানে সেখানে বর্জ্যে পড়ে থাকে। কী দুর্গন্ধ! নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সজলকে এসব খুব কষ্ট দিত। একদিন তিনি ভাবলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু করা যায় না? অপচনশীল বর্জ্য তো কেউ না কেউ বিক্রি করছে। একদিকে পরিবেশের উন্নয়ন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীক সম্ভাবনা খুঁজে পেলেন খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ সজল। বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করলেন। তারাও এগিয়ে এলেন। সজল বললেন, ‘শহরের ছাদে বাগান হতে পারে। তাই বর্জ্যের বিনিময়ে টাকা অথবা গাছ, যে যেটা চান, সেটাই আমরা প্রদান করি। অপচনশীল বর্জ্য শহরের লোকাল মার্কেটে বিক্রি করা হয়। এতে সামান্য লাভও আসে।’ পরিবেশ বর্জ্যমুক্ত হবে। যারা গাছ নিচ্ছেন, তারা বাগান গড়ে তুলছেন। এসবই বা কম কী! প্রথমদিকে সজলের এই কাজে কয়েকজন বন্ধু সাহায্য করত। ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিতে হলে সংগঠন দরকার। এ চিন্তা থেকেই ‘ইজি ডোর’ প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন সজল বললেন। ইজি ডোরের দুটি ভাগ আছে। একটা হলো মূল ইজি ডোর, যার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন সজলসহ পাঁচজন। এটা পুরো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। আরেকটি হলো ইজি ডোর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশন। যা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুরুতে মাত্র ৩০ জন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ইজি ডোর ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন করে। এখন এর স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা ৭২ জন। প্রায় সবাই ছাত্রছাত্রী। তারা পড়াশোনাও করে, আবার পরিবেশ সুন্দর রাখতে কাজও করে। খুলনা তো বটেই। সারা দেশে সজলদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে। খুলনার ২৯ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ইজি ডোরের কার্যক্রম চলছে। সজল বলেন, ‘এই দুটি ওয়ার্ডে আমাদের সদস্যরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়েছে। বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলবার জিনিস নয়। জমিয়ে রেখে খবর দিলে আমরাই তা নিয়ে যাব। এসব বুঝিয়েছে।’ ‘ওপেন দ্য ডোর টু উইন দ্য ফ্লোর’ ও ‘শহরকে পরিষ্কার রাখুন, ইজি ডোরের সঙ্গে থাকুন’ এমন প্রত্যয় নিয়ে সংগঠনটির ছেলেমেয়েরা কাজ করছে। খুলনার স্থানীয় মানুষেরা খুব খুশি। বর্জ্য নিয়ে তাদের এখন আর ভাবতে হয় না। ফোন দিলেই বর্জ্য নিতে লোক চলে আসে। ইজি ডোরের প্রতিষ্ঠাতা বললেন, ‘আমাদের লক্ষ্য খুলনা শহরের অপচনশীল বর্জ্য, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, সেগুলো ব্যবস্থাপনা করা। পরবর্তীতে এই কার্যক্রম দেশব্যাপী চালানো হবে। ইজি ডোর বর্তমানে পেপার, প্লাস্টিকসহ অপচনশীল সব বর্জ্যই সংগ্রহ করে। যেনতেন গাছ নয়, এর বিনিময়ে আম, লিচু, অ্যালোভেরাসহ বিভিন্ন রকম ঔষধি গাছ দেওয়া হয়।’ বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ কেন? অন্য কিছুও তো দেওয়া যেত। ‘শহরের বাড়িতে গাছ লাগানোর জায়গা হিসেবে ছাদ ও বারান্দা খুব উপযোগী। বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ নিয়ে সকলে যদি উত্সাহিত হয়। তাহলে খুলনার পরিবেশ হবে অনেক মনোরম। ইজি ডোর সদস্যদের গায়ে টিশার্টে লেখা থাকে ‘বর্জ্য দিন/গাছ নিন’। এমন দৃষ্টি আকর্ষক স্লোগান পাবলিকের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়। অপচনশীল বর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে রেখে দিন। আমাদের কল করুন। আমরা আপনার অপচনশীল বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ কিংবা নগদ অর্থ প্রদান করব। ঘরে বসেই আয় করুন। গাছ নিন।’ এ রকম পোস্ট ফেসবুকে ইজি ডোরের পেজে দেওয়া আছে।
