সরকার ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেলটা প্ল্যান গ্রহণ করেছে। যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে প্রাকৃতিক ও খণিজ সম্পদের পাশাপাশি সমুদ্র সম্পদের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে রয়েছে অঢেল সম্পদ। এই খাতে বিদেশী নির্ভরতা কমিয়ে সরকারের ব্লু-ইকোনমি বাস্তবায়নে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কেননা, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের সীমানা পেরিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশের স্বপ্ন দেখছি। আর এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেতৃত্বে দিতে পারে আমাদের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ( পিএমই) ইঞ্জিনিয়াররা। এ বিষয়ে লিখছেন জি এম ইমরান হোসেন।
কেন পড়বেন পিএমই?
পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং দুইটা আলাদা সেক্টর। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একসাথে পড়ানো হয় বলে এ বিভাগকে বলা হয় পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সব বড় মাপের প্রতিষ্ঠান গুলোতে কাজের সুযোগ রয়েছে। রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও এর অধীনস্থ অধিকাংশ কোম্পানিতে কাজের সুযোগ। কোম্পানিগুলো হলো- বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেড; সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেড; তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড; বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড; জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড; রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড; পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইন্সটিটিউটেও গবেষণার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের অধীনস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা/মেঘনা/যমুনা অয়েল কোম্পানিতে কাজের সুযোগ আছে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে সেভরন, হেলিভারটন, ক্রিস এনার্জি তে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন হয়। গভীর খনিকূপ থেকে শুরু করে খনি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য দাপ্তরিক কাজ করা এ বৈচিত্র্যময় পেশার বৈশিষ্ট্য। এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আলম বলেন, আমাদের দেশে যদিও এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জব কম। তবে বর্তমানে সমুদ্র বিজয়ের পর এবং নতুন নতুন খনি সন্ধানে বর্তমান সরকার যে সকল উদ্যোগ নিচ্ছে এতে করে দেশে জব সেক্টর বৃদ্ধির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া, বিদেশে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রচুর জব সেক্টর রয়েছে। সুতরাং পিএমই পড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া অনেক বেশি সহজ।
