শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ২০:০১

বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার লড়াইয়ে সব শিক্ষার্থী বেপড়োয়া। পরীক্ষায় ভালো পয়েন্টের জন্য সকলেই উন্মুখ। কিন্তু ভালো পয়েন্টের পাশাপাশি  এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে যোগ্য মানবিকতা সম্পন্ন একজন মানুষ গড়ার দিকে। সিংহভাগ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকসহ অভিভাবকদের সম্মান করতেও ভুলে গেছে। এমনকি সহপাঠিদের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত তাও তাদের বোধগম্য নয়।

বিদেশি সংস্কৃতি চর্চা,আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার,বন্ধনহীন পরিবার,ভুল বন্ধু নির্বাচন তাদেরকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের উচিত তাঁর সন্তানের মূল্যবোধ গঠনে নজর রাখা,সন্তানকে যথেষ্ট পরিমাণে সময় দেয়া। পড়ার ঘরের  সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেয়া, পড়ার ভান করে তাঁর সন্তান কি পড়ছে তার দিকে কৌশলে নজর রাখা। প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় ভিন্ন ভিন্ন স্তর ও পরিবারের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেন মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সহপাঠিদের কাছ থেকে নানান বিষয় উপলব্ধি করতে শিখে। আর এর জন্য চাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ-সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের উচিত স্কুলের নিয়ম-কানুন মেনে চলাসহ শিক্ষক ও সহপাঠিদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা। এতে করে উভয়ের মধ্যে একটা সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বপূূূূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। প্রযুক্তি নির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ভালো-মন্দ ব্যবহার এবং প্রভাব সম্পর্কে অধিক সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখা করার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা অর্জন, খেলা-ধুলা করা ও নিজেদের সুপ্ত প্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করা, দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন, নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বিবেককে না জাগালে নৈতিকতার উন্নয়ন কখনো হবে না।

এছাড়া স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত চলছে র্যাগিং এর মতো ভয়াবহ তাণ্ডবতা। এই ভয়াবহতা রোধ করার জন্য শিক্ষার্থী,শিক্ষক,অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব পক্ষেরই সচেতনতা  অপরিহার্য। স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ রেখে সন্তানকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা আদর্শ মা-বাবার একান্ত দায়িত্ব। তাই প্রতিটা মা-বাবার কাছে পরামর্শ সন্তানকে আধুনিক মানুষ হিসাবে গড়ার পাশাপাশি আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।