মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি মেয়াদোত্তীর্ণের ১০ মাস!

স্বল্প মজুরিতে মানবেতর জীবন মৌলভীবাজার চা-শ্রমিকদের

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০৯

মাত্র ১০২ টাকা মজুরিতেই দিন কাটছে পাঁচ, সাত সদস্যের চা-শ্রমিক পরিবারের। ১০২ টাকা মজুরির মেয়াদও ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়েছে। চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা দুঃখ কষ্টে দিনযাপন করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে চা-শ্রমিকদের দুই বছর অন্তর মজুরি বৃদ্ধির চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়।

মৌলভীবাজার চা-শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী, যুগ্ম আহ্বায়ক হরিনারায়ণ রিকিয়াশন, সুনীল কর, নারী চা শ্রমিক সুমি গোয়ালা, লক্ষ্মী রাউতিয়াসহ  সাধারণ শ্রমিকরা বলেন, ১০ মাস সময় চলে গেল এখনো মজুরি চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। আমাদের শ্রমে ঘামে চা উত্পাদনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও আমরা চা-শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়ন ও মজুরি খুবই কম। তারা আরো বলেন, মাত্র ১০২ টাকা মজুরি আর সপ্তাহে রেশনের মাত্র ২ কেজি ৭০০ গ্রাম নিম্নমানের আটা দেওয়া হয়। তা দিয়েই আমাদের পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবারের তিনবেলা খাবার চালিয়ে যেতে হয়। তারা দ্রুত চুক্তির মাধ্যমে মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, মজুরি চুক্তির বিষয়ে আমরা দাবি জানিয়েছি। আসলে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠানে মালিক পক্ষের নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ হচ্ছে। মাসে ন্যূনতম দুইটি বৈঠক হলে আমাদের চুক্তির বিষয়টি অগ্রসর হতো। তিনি আরো বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে যদি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয় তাহলে বাধ্য হয়েই আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে।

তবে মজুরি চুক্তির বিষয়ে বাগান মালিকদের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা-বাগানের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, চা-শ্রমিক ইউনিয়ন যেভাবে দাবি করে বাস্তবে সেভাবেই বাস্তবায়ন হচ্ছে। মজুরি চুক্তির বিষয়ে তাদের জোরালো ভূমিকা না থাকায় সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।